বাড়ি বাংলাদেশ বিএনপির সাত দফা দাবি অযৌক্তিক ও অবাস্তব- ওবায়দুল কাদের

বিএনপির সাত দফা দাবি অযৌক্তিক ও অবাস্তব- ওবায়দুল কাদের

96

বিএনপির ঘোষিত সাত দফা দাবিকে অযৌক্তিক ও অবাস্তব বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, বিএনপি এই সাত দফা দাবি অযৌক্তিক ও অবাস্তব এবং কোনো কোনোটি সংবিধানবিরোধী, কাজেই এসব অবাস্তব দাবি এই সময়ে, নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণার আর মাত্র এক মাস বাকি এর মধ্যে মেনে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। তারা নিজেরাই ক্ষমতায় থাকলে এই সময়ের মধ্যে দাবিগুলো মেনে নিতে পারত না। অসংবিধানিক দাবি কেউ মেনে নিতে পারে না।

সোমবার (১ অক্টোবর) দুপুরে গুলশান কাঁচাবাজারে নির্বাচনী গণসংযোগে গিয়ে সাংবাদিকদের সামনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে টানা সাত দিনব্যাপী আওয়ামী লীগের গণসংযোগের অংশ হিসেবে সোমবার গুলশান থেকে গণসংযোগ শুরু করেছে আওয়ামী লীগ।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণার আর মাত্র এক মাস বাকি। এর মধ্যে তাদের দাবি মেনে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। তারা নিজেরাও ক্ষমতায় থাকলে এই সময়ের মধ্যে দাবিগুলো মেনে নিতে পারতেন না। অসাংবিধানিক দাবি কেউ মেনে নিতে পারতেন না।

‘এ দাবিগুলো তারা শুধু বলার জন্য বলছে, তাদের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে এসব আবোলতাবোল দাবি তুলছে। তারাও জানে এ দাবিগুলো মেনে নেয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।’

নাশকতা প্রতিরোধে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, সহিংসতা, নাশকতা সাম্প্রদায়িক অপশক্তির সব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। সঙ্গে সঙ্গে আমরা আমাদের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

‘আমরা মারামারি, হানাহানি, পাল্টাপাল্টির মধ্যে নেই। বিএনপিসহ সাম্প্রদায়িক শক্তি সহিংসতা, নাশকতা করলে আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ করব। এটিই হচ্ছে আমাদের উদ্দেশ্য,’ যোগ করেন তিনি।

বিএনপির রাজপথ দখলের ঘোষণার বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘রাজপথ কে দখল করতে আসে দেখব। রাজপথ দখল করতে এলে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমুচিত জবাব দেবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি হচ্ছে নিরীহ কর্মসূচি। আমাদের কর্মসূচি হচ্ছে- জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মসূচি। আমরা জনগণের কাছে যাব, উত্তেজনা ছড়াব না। কোনো ধরনের উত্তেজনা ছড়াব না।’

দলীয় যেসব প্রার্থী নিজেরা নিজেদের বিষোদগার করবেন, এ রকম কোনো প্রার্থীকে মনোনয়ন দেবেন না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, ‘গণসংযোগে কোনো প্রার্থীর নয়, গণসংযোগ হবে নৌকার। পরিচালনা করার জন্য সব ওয়ার্ড মহানগর জেলা উপজেলা ইউনিয়নে শুরু হচ্ছে এটাই প্রথম প্রোগ্রাম। ক্যামেরার সামনে লোক দেখানো গণসংযোগ করবেন না।’

গণসংযোগ থেকে আগামী নির্বাচনে উন্নয়নের রোল মডেল শেখ হাসিনাকে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার জন্য আহ্বান জানান কাদের।

গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য শয়তানের সঙ্গে বন্ধুত্ব করব রোববার (৩০ সেপ্টেম্বর) সোহরাওয়ার্দীতে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের এমন বক্তব্যের জবাব জানতে চাইলে তিনি বলেন, শয়তানের সঙ্গে যারা জোট করেন, তারা নিজেরাই শয়তান।

ওবায়দুল কাদের ছাড়াও গণসংযোগে অংশ নেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, ঢাকা মহানগর উত্তরে সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, বনানী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম জসিম উদ্দিন, ঢাকা উত্তর মহানগর আওয়ামী লীগের সহপ্রচার সম্পাদক সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক রানা।