বাড়ি ঢাকা পুলিশের হাতে নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়: প্রধানমন্ত্রী

পুলিশের হাতে নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়: প্রধানমন্ত্রী

183

জনগণের আস্থা অর্জন এবং জনবান্ধব হতে পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেইসাথে পুলিশের হাতে যাতে কোনো নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার বা কোন প্রকার নির্যাতিত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে বলেছেন তিনি।

আজ (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০১৯’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশের প্রত্যেক সদস্যের ওপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পালনের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করে জনবান্ধব পুলিশে পরিণত হতে হবে, এটাই আপনাদের কাছ থেকে আমি আশা করি। আমরা চাই আমাদের পুলিশ বাহিনী অন্যদের কাছে নিজেদেরকে রোলমডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করুক। দেশ ও জনবান্ধব হিসেবে সুনাম অর্জন করুক। সেভাবে আপনারা নিজেদের গড়ে তুলবেন।’

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উদ্বৃত করে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‌‘আমি পুলিশ বাহিনীকে এইটুকু বলবো, জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান আপনাদের যে কথা বলেছেন– আপনারা বাংলাদেশেরই বিভিন্ন পরিবার থেকে এসেছেন- আজকে বাংলাদেশের মানুষের জীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা থাকা, মানে হচ্ছে আপনাদের পরিবারের সদস্যরা শান্তি নিরাপত্তায় ঠ্যাকা।’

তিনি আরো বলেন, আমরা লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। কাজেই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা, উন্নত সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা একান্তভাবে প্রয়োজন এবং জরুরি। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করা এটা আপনাদের দায়িত্ব। আপনারা নিজের দেশ, নিজেদের পরিবারের কথা চিন্তা করে এই দেশকে আরও উন্নত রাখবেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা বিষয় লক্ষ্য রাখবেন আপনাদের হাতে কোনো নিরীহ জনগণ যেন নির্যাতনের শিকার না হয় বা কোনো রকম হয়রানির শিকার যেন না হয়। বরং কোনো মানুষ নির্যাতিত হলে, হয়রানি হলে তাদেরকে রক্ষা করা আপনাদের কর্তব্য। এসবই জনগণ আপনাদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করে’

উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ সহ সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের চলতে হবে। বিশ্বায়নের যুগে ক্রাইমের ধরনও পাল্টে যাচ্ছে। সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমাদেরকেও প্রস্তুতি নিতে হবে।’

সরকার প্রধান এসময় আরো বলেন, পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ওপর আমরা জোর দিয়েছি, সব পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিতে হবে। ক্যাডার কর্মকর্তাসহ সব পুলিশ সদস্যকে কর্মস্থলে যাওয়ার আগেই বুনিয়াদী ও মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের ব্যবস্থা করছি আমরা। এই প্রশিক্ষণকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতে হবে।’

মাদক নির্মূলে ও নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নে পুলিশ বাহিনীকে যথাযথভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাদক নির্মূলের যে অভিযান আমাদের চলমান, এটা আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে। তার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নে মানুষের মাঝে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে আমরা যেসব পদক্ষেপ নিয়েছি সেগুলো যথাযথভাবে পালন করা একান্তভাবে প্রয়োজন।

জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও মাদক নির্মূলে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে এবং সে অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর সুফল এবং এক্ষেত্রে পুলিশের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় জাতীয় জরুরি সেবা- ৯৯৯ এর কার্যক্রমের ফলে সাধারণ মানুষের কাছে জরুরি সেবা (ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশ) প্রাপ্তি সহজতর হয়েছে, মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।’

বাংলাদেশ পুলিশের অনলাইনভিত্তিক সেবা প্রদান, মোবাইল অ্যাপস প্রবর্তন এবং তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণে বিভিন্ন সফটওয়্যার সংযোজন ও ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহারের প্রশংসা করেন তিনি।

ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইম, মানি লন্ডারিং, সাইবার ক্রাইম এবং সমসাময়িক অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও পুলিশ সদস্যদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সদস্যদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘আমরা আইন শৃঙ্খলাখাতে বরাদ্দকৃত অর্থকে ব্যয় হিসাবে ধরি না, জনগণ সেবা পাচ্ছে বলেই আমরা ধরে নেই।’

উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গঠনে সবার সহযোগিতা কামনা করে টানা তিনবারসহ চারবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কাজেই আমরা সবার সহযোগিতা কামনা করি, যেন বাংলাদেশকে আমরা সারাবিশ্বের বুকে একটি উন্নত সমৃদ্ধ শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারি। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দমন, আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, বিগত দিনে বিভিন্ন আন্দোলনের সহিংসতা দমনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশ-বিদেশে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পুলিশ সদস্যদের ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় রাজারবাগ পুলিশ লাইনের অনুষ্ঠানস্থলে এলে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরকে পুলিশের একটি সুসজ্জিত ঘোড়াসওয়ার শোভাযাত্রা স্বাগত জানায়।

প্যারেড গ্রাউন্ড এলে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। এ সময় পুলিশের একটি চৌকস দল প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে।

খোলা জিপে প্রধানমন্ত্রী প্যারেড পরিদর্শন করেন। পরে প্যারেড কমান্ডার পুলিশ সুপার (এসপি) আবিদা সুলতানার নেতৃত্বে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ প্রদর্শন করেন পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা।

সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ অবদান এবং সেবামূলক কাজের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) ও রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) পদক পান ৩৪৯ জন পুলিশ কর্মকর্তা। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পদকপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পদক পরিয়ে দেন।

এছাড়া অভিযান পরিচালনাকালে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ডিবির ইন্সপেক্টর জালাল উদ্দিনকে এবং ২০১৫ সালে রাজধানীর মৎস্য ভবন এলাকায় বিএনপি-জামায়াতের পেট্রোল বোমায় আহত হয়ে মারা যাওয়া ডিএমপির কনস্টেবল শামীম মিয়াকে মরণোত্তর বিপিএম পদক দেওয়া হয়।