বাড়ি চিটাগাং চট্রগ্রামে ১ ঘন্টার বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা

চট্রগ্রামে ১ ঘন্টার বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা

88

হঠাৎ ভারী বর্ষণ, ঘণ্টাখানেকের টানা বৃষ্টি। বৃষ্টিতে নগরীর অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। কোথাও হাঁটু পানি, কোথাও আবার কোমর পানি। সাথে ছিল ঝড়ো হাওয়া। অল্প বৃষ্টিতে অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার বেশি পানি জমেছে। গতকাল শুক্রবার বন্ধের দিনে স্বস্তিতে ঈদের বাজার করার জন্য ঈফতারের পর বের হয়েছেন অনেকে। কিন্তু পানি ঢুকে পড়ে অনেক মার্কেটে। এতে করে স্বস্তিকর হয়নি ঈদবাজার। এক টানা ভারী বর্ষণে দুর্ভোগে পড়েছেন ক্রেতা এবং পথচারীরা। এর প্রভাব পড়েছে ঈদবাজারে। গতকাল সন্ধ্যায় ইফতারের পর পৌনে ৮টা থেকে নগরীতে শুরু হয় দমকা হওয়াসহ ভারী বর্ষণ। ভারী বর্ষণ ও দমকা হাওয়ায় অনেক এলাকায় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যায়। টানা ঘণ্টাখানেকের বৃষ্টিতে অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বিভিন্নজন ফোন করে নিজ নিজ এলাকায় পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কথা জানান। গতকাল রাত নয়টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ৩৫ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে।
নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ভুক্তভোগীরা জানান, বৃষ্টিতে ওয়াসার মোড়ে কোমর সমান পানি হয়েছে। জিইসির মোড়, প্রবর্তক মোড়, সিঅ্যান্ডবি কলোনির মোড়, হালিশহর, ঈদগাঁহ এলাকা পানিতে থৈ থৈ করছিল। পানি জমেছে নাসিরাবাদে। চকবাজারে কোমর সমান পানি ছিল। এছাড়া কাপাসগোলা, শুলকবহর, কাতালগঞ্জ, বাদুরতলা, জাকির হোসেন রোড, ষোলশহর, খুলশী কলোনি, বহদ্দারহাট ফরিদার পাড়া, তালতলা, খলিফাপট্টি, ঘাটফরহাদবেগ, বিআরটিসি ফলমন্ডি, নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি, মুরাদপুর, খাতুনগঞ্জ, আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিকসহ নগরীর অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। অল্প বৃষ্টিতে অন্যান্য বছরের চেয়ে নগরীতে এবার বেশি পানি জমেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে ঈদবাজারে। বহদ্দারহাট স্বজন সুপার মার্কেটের ভেতরে পানি ঢুকে গেছে বলে জানান মার্কেটের মালিক ব্যবসায়ী স্বপন বৈঞ্চব। মার্কেটের নিচতলায় পানি ঢোকায় ঈদের কেনাকাটা করতে আসা লোকজন দুর্ভোগে পড়েন। দোকানের পণ্য তাড়াহুড়া করে সরাতে বেগ পেতে হয়েছে দোকানদারদের।
এদিকে, খানাখন্দে ভরা রাস্তায় বেশি দুর্ভোগে পড়েছে কেনাকাটা করতে আসা নারী ও শিশুরা। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় পানিতে আটকে যায় কার, ট্যাক্সিসহ অন্যান্য গাড়ি। কোথাও কোমর সমান, আবার কোথাও হাঁটু সমান পানির কারণে অধিকাংশ রুট গণপরিবহন শূন্য হয়ে যায়। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েন ঘরমুখো মানুষ। এ সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকেও গাড়ি না পেয়ে অনেকে নির্দিষ্ট গন্তব্যে যেতে পারেননি। আবার বৃষ্টির কারণে রিকশাচালকরা ভাড়া কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন।
জিইসির মোড় থেকে নুরুন নবী সাহেদ জানান, জিইসি ও ২ নম্বর গেট পানিতে থৈ থৈ করছে। চকবাজার বিএড কলেজ এলাকার রাজিব নন্দী জানান, চকবাজার থেকে বিএড কলেজ পর্যন্ত কোমর সমান পানি ছিল।
আল ফালাহ গলি এলাকার বাসিন্দা শিক্ষক দেবাশীষ নন্দী ও আলী রেজা আজাদীকে জানান, ২ নং গেট আল ফালাহ গলিতে কোমর সমান পানি।
এদিকে বন্দরটিলা, সিমেন্ট ক্রসিং, ইপিজেড হাসপাতাল গেট এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় বলে জানান ডা. অসীম দাশ। বাদুরতলা এলাকা থেকে সরোয়ার কামাল ও রাশেদ চৌধুরী জানান, বাদুরতলা, জঙ্গিশাহ মাজার গেট ও আরকান সোসাইটিতে জলাবদ্ধতা হয়। হালিশহর এ ব্লক গাউছিয়া ডুবে গেছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা অপু ইব্রাহিম।
চকবাজার এলাকার বাসিন্দা আবদুর রউফ জানান, কাতালগঞ্জ, চকবাজার, কাপাসগোলায় হাঁটুর উপরে পানি। অলংকার এলাকার বাসিন্দা এম এ সালাম জানান, আগের তুলানায় এবার অনেক বেশি পানি জমেছে। আগে ৪/৫ ঘণ্টা বৃষ্টি হলে ডুবত। এবার ৩০ মিনিটের বৃষ্টিতে অধিক পানি হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা সেখ ফরিদ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে আজ শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে সাময়িকভাবে মেঘলা থাকতে পারে। সেই সাথে কোথাও কোথাও অস্থায়ী দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ সাময়িকভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
বাতাসের গতিবেগ দক্ষিণ/দক্ষিণ-পশ্চিম দিক হতে ঘণ্টায় ১২-১৮ কিলোমিটার বেগে, যা অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৩৫-৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।
গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের জন্য সতর্কতা সংকেত নেই। তবে নদী বন্দরের জন্য ১ নং নৌ-সতর্কতা সংকেত আছে।