বাড়ি দিত্বীয় সারির খবর নুসরাত হত্যা মামলায় ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত

নুসরাত হত্যা মামলায় ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত

132

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় ফেনীর সোনাগাজী মডেল থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

তদন্ত শেষে রবিবার পিবিআই সদর দপ্তরের সিনিয়র এএসপি রিমা সুলতানা সাইবার আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন।

তিনি বলেন, গত ১৫ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (প্রত্যাহার) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারায় করা অভিযোগটি পিটিশন মামলা হিসেবে গ্রহণ করে তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন আদালত। তদন্তে থানায় বক্তব্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়াসহ প্রত্যেকটি অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। তদন্তে প্রমাণিত সব তথ্য-উপাত্তসহ প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়েছে।

এদিকে এরইমধ্যে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে প্রত্যাহার করে রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ্কই ঘটনায় ফেনীর পুলিশ সুপার এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকারকেও প্রত্যাহার করে পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২৭ মার্চ রাফিকে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা শ্রেণিকক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন। এমন অভিযোগ উঠলে দুজনকে থানায় নিয়ে যান ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। ওসি নিয়ম ভেঙে জেরা করতে নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন। মৌখিক অভিযোগ নেয়ার সময় দুই পুরুষের কণ্ঠ শোনা গেলেও সেখানে নুসরাত ছাড়া অন্য কোনো নারী বা তার আইনজীবী ছিলেন না। ভিডিওটি প্রকাশ হলে অধ্যক্ষ ও তার সহযোগীদের সঙ্গে ওসির সখ্যতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ওসি মোয়াজ্জেম অনুমতি ছাড়া নিয়মবহির্ভূতভাবে নুসরাতকে জেরা এবং তা ভিডিও করেন। পরবর্তীতে ওই ভিডিও ফেসবুক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে দেখা যায় ওসি মোয়াজ্জেম অত্যন্ত অপমানজনক ও আপত্তিকর ভাষায় একের পর প্রশ্ন করে যাচ্ছেন নুসরাতকে। নুসরাতের বুকে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করা হয়েছে কি-না এমন প্রশ্নও করতে দেখা যায় ওসি মোয়াজ্জেমকে।

অধ্যক্ষের নিপীড়নের ঘটনায় রাফির মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। এরপর গত ৬ এপ্রিল নুসরাত পরীক্ষা দিতে গেলে তাকে মাদরাসার ছাদে ডেকে নিয়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন শামীম, জোবায়ের, জাবেদ, মণি ও পপি।

আগুনে গুরুতর দগ্ধ হলে‍ নুসরাতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। গত ১০ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে মারা যান নুসরাত।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই। তদন্তে বের হয়ে আসে ঘটনার মূল রহস্য। মাদরাসা অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার নির্দেশে নুসরাতকে হত্যা করা হয় বলে আসামিরা আদালতে জবানবন্দিতে জানান।