বাড়ি প্রথম সারির খবর জোয়ারের পানিতে প্লাবিত কুতুবদিয়ার ১৫ গ্রাম

জোয়ারের পানিতে প্লাবিত কুতুবদিয়ার ১৫ গ্রাম

123

বৈরী আবহাওয়া ও বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের ফলে কুতুবদিয়া উপকূলে স্বাভাবিকের চেয়ে ৪/৫ ফুট উচ্চতায় জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে বৈরী আবহাওয়া, বর্ষণ এবং সামুদ্রিক জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় কুতুবদিয়া দ্বীপের বেড়িবাঁধের কমপক্ষে ১৫ স্থান জোয়ার-ভাটার পানিতে একাকার হয়ে পড়েছে।

এর ফলে গত তিন দিন ধরে আষাঢ়ী পূর্ণিমার জোয়ারের লোনা পানিতে প্লাবিত হয়ে পড়ছে দ্বীপের অন্তত ১৫ গ্রাম। এতে দ্বীপের কয়েক হাজার মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।

ইউএনও জানান, বৈরী আবহাওয়ায় উপকূলে ৩নং সতর্ক সংকেতের পাশাপাশি পূর্ণিমায় স্বাভাবিকের ছেয়ে জোয়ারের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বেড়িবাঁধ ভাঙ্গন এলাকায় বসবাসরত লোকজনকে মাইকিং করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়েছে।

বেড়িবাঁধ ভেঙে দ্বীপের কয়েক হাজার মানুষের দুর্ভোগের খবর পেয়ে গতকাল রবিবার দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার ঝুঁকি মাথায় নিয়ে দ্বীপ পরিদর্শনে যান স্থানীয় এমপি আশেক উল্লাহ রফিক। তিনি দ্বীপের মুরালিয়া, জেলেপাড়া, তাবলরচর, কাইয়ারপাড়াসহ কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেন। ফোনে স্বাধীণতা৭১ টিভিকে বলেন, ‘রবিবার দ্বীপে এসে না দেখলে আমিও বুঝতাম না পরিস্থিতি কত মারাত্মক। জোয়ারের পানিতে প্লাবিত গ্রামগুলোর বাসিন্দারা বেশ দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন।’

এমপি আশেক বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের কুতুবদিয়া দ্বীপের ৭১ পোল্ডারের ১৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভাঙা ছিল। তিন বছর পূর্বে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রায় ১০০ কোটি টাকা বাঁধ নির্মাণ করার জন্য বরাদ্দ দিয়েছিল। কাজের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দিলেও যথাসময়ে কাজ হয়নি। পরবর্তীতে দ্বীপের বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজে সরকার নৌবাহিনীকে সম্পৃক্ত করলেও তারা বাস্তবে এখনো কোনো কাজ শুরু করতে পারেনি। এসব কারণে দ্বীপের বেড়িবাঁধ ক্রমশ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। গত দুই দিন ধরে পশ্চিম তাবলরচর এলাকায় ভাঙন বাঁধে জরুরি ভিত্তিতে জোয়ার ঠেকানোর জন্য মাটি দিলেও তা পানির তোড়ে তলিয়ে গেছে।’

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে পড়ায় কুতুবদিয়া দ্বীপের লোকজন দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন বলে খবর পেয়েছি। এ জন্য দ্রুত দ্বীপের দুর্গত এলাকায় দেড় হাজার পরিবারের লোকজনের জন্য শুকনা খাবারের বরাদ্দ দিয়েছি। টানা ১৫ দিন একটি পরিবার বরাদ্দ দেওয়া খাবার খেতে পারবে।’

কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপক কুমার রায় জানান, তিনি গত দুদিন ধরে দ্বীপের ভাঙা বেড়িবাঁধ অংশের জোয়ারের পানিতে প্লাবিত কমপক্ষে ১৫ গ্রাম ঘুরে দেখেছেন। স্থানীয় চেয়ারম্যান, জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় প্লাবিত এলাকার শতাধিক পরিবারের লোকজনকেও সরিয়ে নিয়েছেন নিরাপদ স্থানে।

কুতুবদিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী স্বাধীণতা৭১ টিভিকে জানান, দ্বীপের ৪০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে প্রায় ২০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ইতোমধ্যে সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। এ ভাঙন বেড়িবাঁধ এলাকা দিয়ে চলতি পূর্ণিমার জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে ১৫ গ্রাম। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক শ পরিবার। জোয়ারের লোনা পানিতে কয়েক হাজার একর ফসলি জমি ও বিপুল পরিমাণ জমির বীজতলা তলিয়ে গেছে।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা বলেন, ‘মূল ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন কুতুবদিয়া দ্বীপের বেড়িবাঁধটি বছরের পর বছর ধরে সংস্কারের অভাবে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বেড়িবাঁধটি নতুন করে নির্মাণ করা না হলে বাসিন্দারা দিন দিন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।’