বাড়ি অদ্ভুতুড়ে পদ্মা সেতু নির্মাণে ‘মানুষের মাথা’ নিয়ে জবাব দিল; সেতু কর্তৃপক্ষ

পদ্মা সেতু নির্মাণে ‘মানুষের মাথা’ নিয়ে জবাব দিল; সেতু কর্তৃপক্ষ

101

পদ্মা সেতু নির্মাণে মানুষের মাথা লাগবে বলে একটি গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এতে বিভ্রান্ত না হতে দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প পরিচালক মো.শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পদ্মা সেতু নির্মাণকাজ পরিচালনায় মানুষের মাথা লাগবে বলে একটি কুচক্রী মহল বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে অপপ্রচার চালাচ্ছে তা প্রকল্প কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এটি একটি গুজব। এর কোনো সত্যতা নেই। এমন অপপ্রচার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য দেশবাসীকে অনুরোধ করা যাচ্ছে।’

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। মূল সেতুর ২৯৪টি পাইলের মধ্যে ২৯২টি বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। ৪২টি পিয়ারের মধ্যে ইতিমধ্যে ৩০টি পিয়ারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৪টি স্প্যান স্থাপন করা হয়েছে, যা এখন দৃশ্যমান।
৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত মূল সেতুর বাস্তব কাজের অগ্রগতি ৮১ শতাংশ, নদীশাসন কাজের অগ্রগতি ৫৯ শতাংশ এবং প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৭১ শতাংশ।

প্রসঙ্গত-ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে পৌরশহর পর্যন্ত সর্বত্র গলাকাটা এসেছে, শিশুদের গলাকেটে নিচ্ছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে।

শিশুদের সাবধানে রাখার পরামর্শমূলক ম্যাসেজ মোবাইল থেকে মোবাইলে পাঠিয়ে একটি বিশেষচক্র এমন গুজব ছড়িয়েছে বলে জানা গেছে।

গুজব এখন রীতিমত আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। ভয়- আতঙ্কে শিশুরা ঘর থেকে বের হচ্ছে না। ফলে রোববার উপজেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতি অপ্রত্যাশিত রকম কমে গেছে শিক্ষকরা জানিয়েছেন।

চরফ্যাসন উপজেলায় বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকরা জানান, শুক্রবার থেকে গুজবটি ছড়াতে শুরু করে। মোবাইল ফোনে ম্যাসেজ পাঠিয়ে শিশুদের সাবধানে রাখার পরামর্শ দিয়ে একটি চক্র সাধারন মানুষের মধ্যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গুজবটি ছড়িয়ে দেয়।

শনিবার থেকে গুজব ভয়াবহ আতঙ্কে পরিণত হয়। কেবল শিশু নয়, বিভ্রান্ত হয়ে পরেছেন অভিভাবকরাও। আতঙ্কে অভিভাবকরা শিশুদের ঘরবন্দি করে রেখেছেন।

অনেকে অভিভাবক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিক, থানা পুলিশ এবং জনপ্রতিনিধিদের কাছে আসল ঘটনা জানতে চেয়েছেন। শনিবার থেকে রোববার পযর্ন্ত চরফ্যাসন উপজেলার সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্রে এই গুজব।

চরফ্যাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো রুহুল আমিন জানান, এটা স্রেফে গুজব। মানুষের অজ্ঞতাকে ভিত্তি করে এই গুজব ব্যাপক ডালপালা ছড়িয়েছে। কারা কোনো উদ্দেশ্যে এমন গুজব ছড়িয়েছে তা বুঝা মুশকিল। তবে ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে সবাইকে গুজব সম্পর্কে সচেতন থাকতে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

চরফ্যাসন থানার ওসি সামসুল আরেফিন জানান, দিনভর সাধারণ মানুষ থানায় ফোন দিয়ে আসল ঘটনা কী, তা জানতে চেয়েছেন। মোবাইল থেকে মোবাইলে ম্যাসেঞ্জারে ম্যাসেজ পাঠিয়ে গুজবটি ব্যাপকভাবে ছড়ানো হয়েছে। এ গুজব ছড়ানোর নেপথ্যে কারা তাদের খুঁজে বের করতে সন্ধ্যার পর পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামবে।

তিনি বলেন, টিমের সদস্যরা গলাকাটা আসার বিষয়টি গুজব, যার কোনো সত্যতা নেই বলে জনগনের মধ্যে প্রচারণা চালাবেন। পাশাপাশি পুলিশ গুজবের নেপথ্যে কারিগরদের চিহ্নিত এবং গ্রেফতার করবে।