বাড়ি তথ্যপ্রযুক্তি মোবাইল কলে পাচ্ছে ৫৪টি সরকারি গ্রাহক সেবা (নাম্বার সহ)

মোবাইল কলে পাচ্ছে ৫৪টি সরকারি গ্রাহক সেবা (নাম্বার সহ)

495
Side view of line of call centre employees are smiling and working on computers. ** Note: Shallow depth of field

সরকারি বিভিন্ন সংস্থার সেবা এখন ঘরে বসে মুঠোফোন ও ল্যান্ডফোনেই পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি রাস্তায় কোনো বিপদে বা দুর্ঘটনায় পড়লে একটি নম্বরে ফোন করলেই দ্রুত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্য বলছে, ৫৪টি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ‘হেল্পলাইন’ চালু করেছে।

কোনো নির্দিষ্ট একটি সংস্থার হেল্পলাইনে (নম্বর) কেউ ফোন করলেই অপর প্রান্ত থেকে কী ধরনের সহায়তা তিনি চান, প্রথমে তা জানতে চাওয়া হয়। সমস্যা শোনার পর প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা দেওয়া হয়। বিটিআরসির একজন কর্মকর্তা জানান, ৯৯৯ নম্বরে (জাতীয় জরুরি সেবা) সবচেয়ে বেশি ফোন আসে।

৭০% পুলিশি সেবা চায় 

৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স-সংক্রান্ত সেবা পাওয়া যায়। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে এই সেবা চালু হয়। জাতীয় জরুরি সেবার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সুপার তবারক উল্লাহ বলেন, এই নম্বরে প্রতিদিন গড়ে ১৮ হাজার ফোন (কল) আসে। যত ফোন আসে, তার প্রায় ৭০ শতাংশই আসে পুলিশি সহায়তার জন্য। ২২ থেকে ২৫ শতাংশ ফোন ফায়ার সার্ভিসের জন্য এবং ৫ শতাংশের মতো ফোন আসে অ্যাম্বুলেন্স সেবা পেতে। তিনি বলেন, জাতীয় জরুরি সেবায় আসা মোট ফোনকলের ২০ শতাংশই প্রয়োজনের জন্য ফোন করেন। বাকি ৮০ শতাংশ ফোনে সুনির্দিষ্ট কোনো সমস্যার কথা কেউ বলেন না। অনেকে এমনিতেই ফোন করেন।

৯৯৯ নম্বরে কেউ ফোন করলে সমস্যার ধরন, নাম-পরিচয় ও ঠিকানা জেনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। যেমন কেউ পুলিশের সেবার জন্য ফোন করলে তাৎক্ষণিকভাবে ওই এলাকার সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশের সঙ্গে ফোনেই ওই ব্যক্তিকে কথা বলিয়ে (ফোন কনফারেন্স) সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়।

জাতীয় জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষ জানায়, ৯৯৯ নম্বরে একসঙ্গে প্রায় দেড় শ ফোন রিসিভ করার সুযোগ আছে। সেবা আরও সহজ করতে এ বিষয়ে প্রযুক্তিগত সহায়তা চেয়ে বিটিআরসির কাছে আবেদন করা হয়েছে। আবেদনটি অনুমোদন হলে কেউ ফোন করার সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় জরুরি সেবার নিয়ন্ত্রণকক্ষের ‘মনিটরে’ ওই ব্যক্তির তথ্য (মোবাইলে নিবন্ধনের সময় যেসব তথ্য দেওয়া হয়) ভেসে উঠবে। একই সঙ্গে তিনি কোন জায়গায় আছেন, তাও জানা যাবে। এই সেবা আরও দ্রুত দিতে পুলিশের টহল গাড়িগুলোও প্রযুক্তির আওতায় আনা হচ্ছে। এর ফলে কেউ ফোন করলে কাছাকাছি থাকা পুলিশের টহল গাড়িতে সমস্যাটি জানিয়ে সহজে সহায়তা দেওয়া যাবে। 

নারী নির্যাতন রোধে ‘১০৯’

নারী ও শিশু নির্যাতন এবং পাচার প্রতিরোধে একটি ‘সেল’ চালু করেছে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়। ‘১০৯’ নম্বরে ফোন করে সেবা পাওয়া যাচ্ছে। এই হেল্পলাইনের প্রোগ্রাম অফিসার রাইসুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের এই নম্বরে গড়ে প্রতিদিন সাড়ে ছয় থেকে সাত হাজার ফোন আসে। যিনি ফোন করছেন, তাঁর পরিচয় ও সমস্যা জেনে স্থানীয় প্রশাসনসহ যেভাবে প্রয়োজন সেভাবে সহায়তা করা হয়।

 দুর্যোগের তথ্য জানতে ‘১০৯০’

 দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হেল্পলাইনে ফোন করলে দুর্যোগ-সংক্রান্ত তথ্য জানা যায়। বিটিআরসির একজন কর্মকর্তা বলেন, মূলত দুর্যোগের সময়ে এই নম্বরে বেশি ফোন আসে। 

অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন ‘৩৩৩’

সরকারের এটুআই (অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন) প্রকল্পের অধীনে তথ্য ও সেবা দেওয়ার জন্য এই হেল্পলাইন চালু হয় ২০১৮ সালের এপ্রিলে। এই নম্বরে ফোন করে জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট কোথায়, কীভাবে করতে হয় সে-সংক্রান্ত তথ্যসহ বিভিন্ন সেবা পাওয়া যায়। কোনো সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের নম্বরও মিলবে এই নম্বরে ফোন করে। আবার সামাজিক সমস্যার কথা জানালে তা সমাধানের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে বলা হয়। 

স্বাস্থ্য বাতায়ন (১৬২৬৩) 

যেকোনো সময় যে কেউ অসুস্থ হয়ে যেতে পারে। এ সময় হয়তো আপনি পরিচিত কোনো চিকিৎসককে ফোন করে পাচ্ছেন না; আবার কারও কারও পরিচিত কোনো চিকিৎসক না–ও থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নিশ্চিন্তে ফোন করা যাবে স্বাস্থ্য বাতায়নের হেল্পলাইন ১৬২৬৩ নম্বরে। এটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিচালিত হেল্পলাইন। এই নম্বরে ফোন করে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে সরাসরি চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে আপনি পরামর্শ পেতে পারেন। দিনরাত ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে এই নম্বর। এ ছাড়া স্বাস্থ্য বাতায়ন থেকে সরকারি হাসপাতাল, ডাক্তারের তথ্য কিংবা স্বাস্থ্যসেবা–বিষয়ক অন্যান্য যেকোনো তথ্য ও ফোন নম্বর পাওয়া যাবে। সরকারি, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা অথবা হাসপাতাল–বিষয়ক যেকোনো অভিযোগ কিংবা পরামর্শও এই নম্বরে জানানো যাবে। ওই অভিযোগের ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা-ও জানানো হবে অভিযোগকারীকে।

স্বাস্থ্য বাতায়নের ওয়েবসাইট বলছে, এই নম্বরে ফোন করতে প্রতিমিনিট ২.৩৭ টাকা চার্জ (ভ্যাটসহ) প্রযোজ্য। এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নির্ধারিত ফরমে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে যে–কেউ অনলাইনে স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারেন। তবে পরামর্শ হলো, পারলে কলম-কাগজ হাতে নিয়ে ফোন করা ভালো। চিকিৎসক যে ওষুধের নাম বলবেন, তার বানান জেনে নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে লিখে ফেলবেন। সেবনের মাত্রা (ডোজ), অর্থাৎ দিনে কয়বার-কী পরিমাণে খেতে হবে, তা সঙ্গে সঙ্গে লিখে নিলে পরে কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না। তবে হ্যাঁ, বড় ধরনের অসুস্থতার জন্য দ্রুত কাছের হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে রোগীকে।

নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ সেল (১০৯ বা ১০৯২১) 

আমাদের দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে প্রতিনিয়ত। এই নির্যাতন প্রতিরোধে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ সেল’ চালু করা হয়েছে, যার নম্বর ১০৯২১। কোনো নারী নির্যাতনের শিকার হলে, বখাটেদের আক্রমণের মুখে পড়লে অথবা অপমানিত হওয়ার আশঙ্কা করলে সঙ্গে সঙ্গে এই নম্বরে ফোন করে সাহায্য চাইতে পারেন। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল কর্মসূচির আওতায় এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এ নম্বরে ফোন করতে কোনো চার্জ দিতে হবে না। সপ্তাহের সাত দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে এই নম্বর।

চাইল্ড হেল্প লাইন (১০৯৮) 

সুবিধাবঞ্চিত নির্যাতিত ও বিপদাপন্ন শিশুদের ২৪ ঘণ্টা জরুরি সহায়তা সেবা দিতে ২০১১ সালে যাত্রা শুরু করে চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮। সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধান অপরাজেয় বাংলাদেশ নামের একটি বেসরকারি সংস্থা এই হেল্পলাইন পরিচালনা করছে। এই নম্বরে ফোন করতে কোনো চার্জ প্রযোজ্য হবে না।

সরকারি আইন সেবা (১৬৪৩০) 

অনেক সময় দুস্থ ও দরিদ্র মানুষ টাকার অভাবে আইনি পরামর্শ বা সহায়তা পান না। ফলে কেউ কেউ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন। তাঁদের কথা ভেবেই বিনা মূল্যে আইনি পরামর্শ ও আইনগত সহায়তা দিতে ১৬৪৩০ নম্বর চালু করা হয়। ২০১৬ সাল থেকে আইন ও বিচার বিভাগের অধীনে জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থা এই সেবা দিয়ে আসছে। যেকোনো মোবাইল অপারেটর ও টিঅ্যান্ডটি নম্বর থেকে এই নম্বরে বিনা মূল্যে ফোন করা যাবে।

জাতীয় পরিচয়পত্র (১০৫) 

এখন জাতীয় পরিচয়পত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় এই পরিচয়পত্র হারিয়ে যায়, নষ্ট হয়ে যায়। আবার দেখা যায় যে, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর জাতীয় পরিচয়পত্র নতুন করে করতে হয়। সে ক্ষেত্রে ভুল ভ্রান্তি হলে সংশোধন করতে হয়। কখনো কখনো হালনাগাদ করার প্রয়োজন হয়। এসব বিষয়ে জানতে বা জাতীয় পরিচয়পত্র বিষয়ে যেকোনো তথ্যের জন্য ১০৫ নম্বরে ফোন করা যাবে। নির্বাচন কমিশন এই হেল্পডেস্ক চালু করেছে ২০১৫ সালে। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে যে কেউ ১০৫ নম্বরে ফোন করে জাতীয় পরিচয়পত্র–সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারবেন।

বিটিআরসি (১০০)

ফোন ছাড়া এখন চলেই না। দেশে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ফোন সেবা দিয়ে আসছে। গ্রাহক সেবা দিতে এসব প্রতিষ্ঠানের কাস্টমার কেয়ার রয়েছে। সংশ্লিষ্ট গ্রাহকেরা কাস্টমার কেয়ারে ফোন দিয়ে সেবা সম্পর্কে তথ্য ও অভিযোগ জানাতে পারেন। তবে গ্রাহকদের অভিযোগ গ্রহণ প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কল সেন্টার (১০০) চালু করে। বিনা খরচে ফোন করে যে কেউ অভিযোগ জানাতে পারবেন এই নম্বরে।

বাংলাদেশ ব্যাংক (১৬২৩৬) 

ব্যাংকিং সেবা পেতে হয়রানির শিকার হলে বা কোনো অভিযোগ থাকলে তা সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকে জানানো যাবে ১৬২৬৩ নম্বরে। এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের হেল্পলাইন। কোনো গ্রাহক কোনো ব্যাংকে গিয়ে হয়রানির শিকার হলে বা কোনো ব্যাংকের কর্মকর্তা গ্রাহককে যথাযথ সেবা না দিলে এই নম্বরে অভিযোগ দিতে পারেন। যেকোনো মোবাইল অপারেটর থেকে এই নম্বরে ফোন করা যাবে। এ জন্য স্বাভাবিক কল রেট প্রযোজ্য হবে। 
পাশাপাশি bb. cipc@bb. org. bd ঠিকানায় ই-মেইলের মাধ্যমেও অভিযোগ জানানো যাবে।

দুদক (১০৬) 

চোখের সামনে কোনো দুর্নীতি ও অনিয়ম হচ্ছে—কিন্তু কিছু করতে পারছেন না। কিংবা আপনি নিজেই সেই অনিয়মের শিকার হচ্ছেন। এমন দুর্নীতি ও অনিয়মের তথ্য জানাতে হটলাইন ১০৬ চালু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। টেলিফোন বা যেকোনো মোবাইল ফোন থেকে কল করা যাবে এই নম্বরে। যে কেউ বিনা মূল্যে এই নম্বরে কল করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে অভিযোগকারীর নাম ও পরিচয় গোপন রাখা হয়। অভিযোগকারী চাইলে তাঁর বক্তব্য রেকর্ড করা যাবে। অফিস চলাকালে, অর্থাৎ সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত কল করা যাবে এই নম্বরে।

ইউনিয়ন পরিষদ হেল্প লাইন (১৬২৫৬) 

ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে যেকোনো ভাতা বা অনুদানসংক্রান্ত তথ্য ও পরামর্শ সেবা দিতে ২০১২ সালে যাত্রা শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদ হেল্পলাইন ১৬২৫৬। যে–কেউ দেশের যেকোনো স্থান থেকে ফোন করে এই সেবা নিতে পারবেন। যেকোনো মোবাইল অপারেটর থেকে এই নম্বরে ফোন করা যাবে। এ জন্য স্বাভাবিক কল রেট প্রযোজ্য হবে।

এ ছাড়া আরও কিছু নম্বর আছে যেগুলো থেকে নানা সহায়তা পাওয়া যায়। যেমন: কৃষি কল সেন্টার (১৬১২৩), বিটিসিএল (১৬৪০২), দুর্যোগের আগাম বার্তা (১০৯৪১), প্রবাস বন্ধু কলসেন্টার (০৯৬৫৪৩৩৩৩৩৩), ঢাকা ওয়াসা (১৬১৬২)।

আরও যত হটলাইন

দুর্নীতি প্রতিরোধে হেল্পলাইন (১০৬) চালু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। কোথাও দুর্নীতি ও অনিয়ম হলে পরিচয় গোপন রেখেও জানানো যাবে এই নম্বরে। 

এ ছাড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ১৬১০৮, ঢাকা ওয়াসার ১৬১৬২, নির্বাচন কমিশনের ১০৫, আইন মন্ত্রণালয়ের লিগ্যাল এইডের ১৬৪৩০, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১০৯৮, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১৬১০৪ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিষয়ে ১৬৫৫৫ হেল্পলাইন রয়েছে।

 তবে ৫৪টি হেল্পলাইনের মধ্যে গতকাল শনিবার দুপুরে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, বিআরটিএ, শ্রম অধিদপ্তর এবং তিতাস গ্যাসের নামে নেওয়া হেল্পলাইন বন্ধ পাওয়া যায়। বিটিআরসির একজন কর্মকর্তা জানান, ৫৪টি হেল্পলাইন থাকলেও মূলত চার থেকে পাঁচটির ব্যবহার বেশি হয়।

সরকারি সংস্থাগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাংক, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও হেল্পলাইন চালু করেছে। কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক এখন হেল্পলাইনের পাশাপাশি অ্যাপসভিত্তিক সেবাও দিচ্ছে। আর মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বেশ কয়েক বছর ধরেই গ্রাহকদের জন্য হেল্পলাইন সেবা দিয়ে আসছে।

 গণপিটুনি, নারী নির্যাতনসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন অপরাধের প্রসঙ্গ টেনে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির মাধ্যমে ফোন ও বিভিন্ন অ্যাপস ব্যবহার করে অনেক সমস্যার সমাধান পাওয়া যাচ্ছে। এই সুযোগটা মানুষকে নিতে হবে।

এক নজরে বাংলাদেশের জরুরী সেবার হটলাইন নাম্বার সমূহ

☎ ৯৯৯ – বাংলাদেশের জরুরি কল সেন্টার । এখানে বিনামূল্যে ফোন করে আপনি জরুরী মুহুর্তে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও এ্যাম্বুলেন্স এর সাহায্য নিতে পারবেন । এছাড়া যে কোন অপরাধের তথ্যও পুলিশকে জানাতে পারবেন ।

☎ ১০৬ – দুর্নীতি দমন কমিশনের কল সেন্টার । যে কোন দুর্নীতি চোখে পড়লে বিনামূল্যে কল করে জানিয়ে দিন ।

☎ ১৬৪৩০ – সরকারি আইনি সহায়তা কল সেন্টার । আইনগত যে কোন পরামর্শ বা সাহায্য পেতে বিনামূল্যে কল করুন ।

☎ ১৬১২৩ – কৃষি বিষয়ক যে কোন পরামর্শ পেতে বিনামূল্যে কল করুন । কৃষি, মৎস, প্রানীসম্পদ বিষয়ক যে কোন পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে জানতে পারবেন ।

☎ ১০৯ – নারী নির্যাতন বা বাল্যবিবাহ হতে দেখলেই বিনামূল্যে কল করুন এই নাম্বারে ।

☎ ১০৯৮ – শিশু সহায়তামুলক কল সেন্টার । চারপাশে শিশুদের যে কোন সমস্যা হলে বিনামূল্যে কল করে সেবা নিতে পারেন এই নাম্বার থেকে ।

☎ ৩৩৩ – জাতীয় তথ্যবাতায়ন কল সেন্টার । বাংলাদেশের যে কোন তথ্য জানতে ও সরকারি কর্মকর্তাদেরর সাথে কথা বলতে কল করুন এই নাম্বারে । (চার্জ প্রযোজ্য)

☎ ১৬২৬৩ – বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য কল সেন্টার । যে কোন সমস্যায় ২৪ ঘন্টায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন । (চার্জ প্রযোজ্য)

☎ ১৬১০৮ – মানবাধিকার সহায়ক কল সেন্টার । মানবাধিকার বিঘ্নিত হলে কল করুন এই নাম্বারে । (চার্জ প্রযোজ্য)

☎ ১৬২৫৬ – আপনার ইউনিয়নের সকল তথ্য জানতে কল করুন ইউনিয়ন সহায়তামুলক কল সেন্টারে । (চার্জ

☎ ১৩১ – বাংলাদেশ রেলওয়ে কল সেন্টার । ট্রেন ও এর টিকিট সম্পর্কে জানতে কল করুন । (চার্জ প্রযোজ্য)

☎ ১০৫ – জাতীয় পরিচয়পত্র তথ্য কল সেন্টার । (চার্জ প্রযোজ্য)

☎ ১০০ – বিটিআরসি কল সেন্টার ।

☎ ১৬৪২০ – বিটিসিএল কল সেন্টার ।