বাড়ি চিটাগাং চট্টগ্রামে ট্রেন স্টেশনে ঘরমুখো যাত্রীদের ভিড়

চট্টগ্রামে ট্রেন স্টেশনে ঘরমুখো যাত্রীদের ভিড়

104

রেল লাইনের দুই পাশের প্লাটফর্মে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে হাজার হাজার মানুষ। নির্ধারিত সময়ের ৩ ঘন্টা আগে থেকেই বাড়ি ফেরা লোকজন ট্রেনের অপেক্ষায় এভাবেই লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। স্টেশনে ট্রেন ঢুকতেই মিনিট পাঁচেকের মধ্যে ট্রেনের ভেতরে বাইরের সব জায়গা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেল। কোরবানি ঈদ উপলক্ষে সাধারণ মানুষের বাড়ি ফেরার মিছিলের চিত্র এটি।

সরেজমিনে গিয়ে শুক্রবার (৯ আগষ্ট) চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের এমন স্রোতই দেখা গেল। বিকেল সাড়ে তিনটায় চাঁদপুরগামী চাঁদপুর স্পেশাল ২ এর জন্য দুপুর দুইটাথেকেই ভিড় জমতে শুরু করে ৫ নম্বর প্লাটফর্মের দু’পাশে। ঠিক তিনটায় প্লাটফর্মে আসে ট্রেনটি। মূহুর্তের মধ্যেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় ট্রেনটি। ট্রেনের ছাদে বিছানা চাদর পেতে বসেন অনেকে। কিন্তু ছেড়ে যাওয়ার পূর্ব মুহুর্তে বাধে বিপত্তি।

ট্রেনের ছাদে অতিরিক্ত যাত্রী উঠে পড়ায় একপাশে কাত হয়ে যায় ট্রেনের একটি কোচ। ফলে ঐ কোচের ছাদ থেকে কিছু মানুষকে নেমে যেতে অনুরোধ করে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায়ও কাউকে না নামাতে পেরে শেষমেশ একটু কঠোর অবস্থানে যায় আরএনবি। মই এনে ট্রেনের ছাদে উঠে জোড় করে অনেক যাত্রীকে নামিয়ে দেন তারা।

ট্রেন থেকে নেমে আসা রুবেল নামে একজন স্বাধীনতা ৭১টিভিকে বলেন, অনেক কষ্টে ট্রেনে একটা জায়গা পেয়েছিলাম। এখন নেমে যেতে হলো,  খারাপ লাগছে। রেলের ছাদে এভাবে যাতায়াত নিরাপদ কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিরাপদ না ঠিক আছে। কিন্তু বাড়ি তো যেতে হবে।

সিএন্ডএফ এজেন্টে কর্মরত কাশেম নামে একব্যাক্তি স্বাধীনতা ৭১টিভিকে জানান, টিকেট কেটেও ট্রেনে উঠতে পারেননি তিনি। 

তিনি বলেন, আমি দুপুর থেকে প্ল্যাটফর্মে আছি। ট্রেন আসার সাথে সাথেই পুরো ট্রেন ভর্তি হয়ে গেল। কি আর করবো, পরের ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তারপরও ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি যাওয়ার পক্ষে নই।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন রুবেল স্বাধীনতা ৭১টিভিকে বলেন, ছাদে অতিরিক্ত যাত্রী উঠায় চাঁদপুর স্পেশাল ২ এর একটা বগি এক পাশে হেলে গিয়েছিল। আমরা বলেছি ঐ বগির  ছাদ থেকে যাত্রী না নামলে ট্রেন প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে যাবে না।

তিনি বলেন, একই রুটে বিকেল ৫টায় আরও একটা ট্রেন যাবে। সবাই সেটাতে যাওয়ার সুযোগ পাবে।