বাড়ি অদ্ভুতুড়ে ওরা যেভাবে ইয়াবা পাচার করে; বিস্ময়কর পন্থাসমূহ!

ওরা যেভাবে ইয়াবা পাচার করে; বিস্ময়কর পন্থাসমূহ!

141

দেশব্যাপী মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানের মধ্যেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিনই চট্টগ্রামে প্রবেশ করছে ইয়াবার ছোট-বড় চালান। এক্ষেত্রে গ্রেপ্তার এড়াতে প্রতিনিয়ত কৌশল বদলাচ্ছে মাদক পাচারকারীরা। এক কৌশল ধরা পড়ে গেলে ব্যবহার করা হচ্ছে আরেক কৌশল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে নেয়া কৌশলগুলো ক’দিন পরেই অভিযানে বা তল্লাশিতে ধরা পড়ছে। ইয়াবা পাচার ও বেচাকেনার নিত্য নতুন কৌশল দেখে হতবাক হয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও।

নামিদামি পরিবহনের মাধ্যমে

চলতি বছর সোহাগ পরিবহনের স্ক্যানিয়া মডেলের একটি অভিজাত বাস থেকে ১১ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের পর নড়েচড়ে বসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শুরু হয় নিয়মিত অভিযান। উদ্ধার হয় ইয়াবা।

র‌্যাবের অভিযানে গত এক বছরে ৬১ জন ড্রাইভার ও হেল্পারকে মাদক পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। তারা দেশের ৩৫টি বিলাসবহুল (মার্সিডিজ বেঞ্জ, স্ক্যানিয়া, হুন্দাই ইউনিভার্স) বাসে কর্মরত ছিলেন। এসব ঘটনায় ব্যবহৃত শ্যামলী পরিবহন, হানিফ পরিবহন, এস আলম পরিবহন, সাউদিয়া পরিবহন, সোহাগ পরিবহন, এনা পরিবহনসহ কয়েকটি নামি দামি কোম্পানির বাস জব্দ করা হয়।

দুই কোটি টাকার সোহাগ পরিবহনের বাস থেকে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় অভিযুক্ত হেলপার জসীম উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে র‌্যাব। তিনি জানান, চাকরির আড়ালে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মাদক (ইয়াবা) ক্রয় করতেন। পরে ওই মাদক তার কোম্পানির বাস ব্যবহার করে অভিনব উপায়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করতেন।

গত ২৫ জুন সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস থেকে ইয়াবা উদ্ধার করে র‌্যাব। সাত হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় গাড়িচালক আব্দুল হালিম ও সহকারী রনি মিয়াকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা র‌্যাবকে জানান, এক বছর ধরে এ ব্যবসায় জড়িত তারা। ইয়াবাপ্রতি তারা সাত থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত আয় করতেন।

গত এপ্রিলে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী গ্রীন লাইনের বাস থেকে সাত হাজার ২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। হাবিবুর রহমান নামে ওই যাত্রী ইয়াবাগুলো পলিথিনে মুড়িয়ে পেটে বহন করছিলেন।

র‌্যাবের তদন্তে জানা যায়, মাদক পাচারকারীরা নিরাপদ হিসেবে বর্তমানে বিলাসবহুল পরিবহনগুলো ব্যবহার করছেন। বিলাসবহুল বাসগুলোতে ভাড়া অনেক বেশি, উচ্চ-মধ্যবিত্তরা এসব বাসে যাতায়াত করেন। সাধারণত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব বাসে নজর দেবে না বলে ধারণা তাদের।

র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে তারা শ্যামলী পরিবহনের আটটি, হানিফ পরিবহনের চারটি, সোহাগ পরিবহনের তিনটি, সৌদিয়া পরিবহনের দুটি, লন্ডন এক্সপ্রেস, এনা পরিবহন, এস আলম সার্ভিস, কেয়া পরিবহন, স্পেশাল সার্ভিস, বনলতা ও তুবা লাইনের একটি করে বাস জব্দ করা হয়েছে। বাসগুলোর মাধ্যমে টেকনাফ ও কক্সবাজার থেকে নিয়মিত ইয়াবা পাচার হতো।

নারকেলের ভেতর ইয়াবা

বৃহস্পতিবার (১২ জুলাই) চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানার ফিরিঙ্গি বাজারে একটি রেস্টুরেন্টের সামনের রাস্তা থেকে মো. ইদ্রিস (৩১) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। তিনি এক অভিনব পদ্ধতিতে ইয়াবা বিক্রি করছিলেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার কাজল কান্তি চৌধুরী বলেন, ‘অপরাধীদের অপরাধ প্রক্রিয়া যে কত বিচিত্র হতে পারে, তার নিদর্শন হলো আজকের (বৃহস্পতিবার) ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনাটি। মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের একটি দল যখন গোপন সূত্রে নারকেলের ভেতর ইয়াবা পরিবহনের সংবাদটি পায়, তখন মোটামুটি সবাই নড়েচড়ে বসেন। তিনটি নারকেলের ভেতর এমনভাবে ইয়াবাগুলো রাখা ছিল, উপর থেকে দেখে বুঝার কোনো উপায় ছিল না।’

গ্রেফতারকৃত আসামি মো. ইদ্রিসের বরাত দিয়ে তিনি জানান, কক্সবাজারের টেকনাফের আব্দুর শুক্কুর নামে এক ইয়াবা ব্যবসায়ী নারকেলের ভেতরে সুকৌশলে ইয়াবা লুকিয়ে চট্টগ্রাম শহরে নিয়ে আসেন। পরে ইদ্রিসকে এই অভিনব পদ্ধতিতে ইয়াবা বিক্রির কৌশল শিখিয়েছেন শুক্কুর।

চুম্বক আটকে আসছে ইয়াবা

ইয়াবা পাচারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে পাচারকারীরা নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। যার অনেক কৌশল পুরনো হয়ে গেছে। কিন্তু এবার এমন এক কৌশলে ইয়াবা পাচার ধরা পড়ল, যা আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখে পড়েনি। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক পথে ইয়াবা পাচারেও পুলিশের হাতে যারা ধরা পড়ছে অভিনব কায়দা। গাড়ির চাকা ও চেসিসের আশপাশের জায়গায় কৌশলে ইয়াবা লুকানো হয়েছে। এতে ব্যবহার করা হয়েছে চুম্বক কৌশল।

এ ধরনের একটি ঘটনায় পাঁচ হাজার ইয়াবা জব্দ করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। বুধবার (১১ জুলাই) ভোররাতে শাহ আমানত সেতু এলাকায় হানিফ পরিবহনের একটি বাসে এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় বাসের চালক জাহিদ গাজী, হেলপার শিহাব উদ্দিন ও সুপারভাইজার বাশারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

চুম্বক কৌশলের বিষয়টি জানিয়ে নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (বন্দর) আসিফ মহিউদ্দিন বলেন, ‘ইয়াবার প্যাকেটগুলোর সঙ্গে বাড়তি প্যাকেট মোড়ানো হয়েছে। সঙ্গে চুম্বক ব্যবহার করা হয়েছে। এরপর প্যাকেটগুলো বাসের নিচে চাকার কাছে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, প্যাকেটগুলোতে এমনভাবে চুম্বক ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে চলন্ত গাড়ির ঝাঁকুনির সময়ও ইয়াবা পড়ে না যায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। অতীতে চুম্বক কৌশলের মাধ্যমে ইয়াবা পাচারের ঘটনা ধরা পড়েনি।’

দেয়াল ঘড়ির ভেতর ইয়াবা

চলতি মাসের শুরুতে (১ জুলাই) চট্টগ্রাম নগরের শাহ আমানত সেতু এলাকা থেকে বোরহান উদ্দিন (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় তাকে তল্লাশি করে সঙ্গে থাকা একটি দেয়াল ঘড়ির ভেতর থেকে ৭ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির জাগো নিউজকে বলেন, ‘ইয়াবাগুলো অভিনব কায়দায় ঘড়ির ভেতর টেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় ছিল।’

গ্রেফতার হওয়া বোরহান উদ্দিনের বরাত দিয়ে হুমায়ুন কবির জানান, কক্সবাজারের অপু আহম্মদ অপু নামে এক ইয়াবা ব্যবসায়ী দেয়াল ঘড়ির ভেতরে সুকৌশলে ইয়াবা লুকিয়ে চট্টগ্রাম শহরে নিয়ে আসে। পরে তাকে এই অভিনব পদ্ধতিতে বিক্রির জন্য দিয়েছে।

উপরের তিনটি ঘটনাতেই ইয়াবার ছোট ছোট চালান কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে প্রবেশ করেছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক হয়ে ও নগরীর অন্যতম প্রবেশদ্বার শাহ আমানত সেতু ব্যবহার করে।

মরিচের ভেতরে ইয়াবা পাচার

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিতে বিভিন্ন ফল বা সবজির ভেতরে করে ইয়াবাসহ মাদকদ্রব্য পাচারের দৃশ্য এখন আর নতুন কিছু নয়। কিন্তু ছোট্ট মরিচের ভেতরে করে যে এই মাদক পাচার হয়, তা কেউ স্বপ্নেও ভাবতে পারবে না।

সম্প্রতি অভিনব এই পদ্ধতিতে শুকনো মরিচের ভেতরে ১২ হাজার ইয়াবা ঢুকিয়ে পাচারকালে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশ।

 ( নিছে বিভিন্ন পত্রিকা ও ফেইসবুক থেকে সংগৃহিত কিছু ইয়াবা পাচারের কৌশল ছবিসহ দেওয়া হলো )

মাল্টার ভেতরে ইয়াবা পাচার
মাল্টার ভেতরে ইয়াবা পাচার
মোবাইলের ভিতরে ইয়াবা পাচার
মোবাইলের ভিতরে ইয়াবা পাচার
শিশুর মাধ্যমে ইয়াবা পাচার
শিশুর মাধ্যমে ইয়াবা পাচার
মহিলাদের অন্তবাসের ভিতরে বিশেষ ব্যবস্থায় চোরাচালানকৃত ইয়াবা
মহিলাদের অন্তবাসের ভিতরে বিশেষ ব্যবস্থায় চোরাচালানকৃত ইয়াবা
গরুর পেটে অপারেশন করে পাচার করা
গরুর পেটে অপারেশন করে পাচার করা
শ্যালো মেশিনে ইয়াবা পাচার
শ্যালো মেশিনে ইয়াবা পাচার
পেটের ভেতরে ইয়াবা পাচার
পেটের ভেতরে ইয়াবা পাচার
পবিএ কোরআনের ভিতরে ইয়াবা পাচার
পবিএ কোরআনের ভিতরে ইয়াবা পাচার
জুতার ভিতরে ইয়াবা পাচার
জুতার ভিতরে ইয়াবা পাচার
কবুতরের পিঠে ইয়াবা পাচার
কবুতরের পিঠে ইয়াবা পাচার
রান্না করা মাংসে ইয়াবা পাচার
রান্না করা মাংসে ইয়াবা পাচার
কন্ডমের ভিতরে ইয়াবা পাচার
কন্ডমের ভিতরে ইয়াবা পাচার
জুসের বোতলে ইয়াবা পাচার
জুসের বোতলে ইয়াবা পাচার
আলমারিতে ইয়াবা পাচার
আলমারিতে ইয়াবা পাচার
গোপনাঙ্গে লুকিয়ে ইয়াবা পাচার
গোপনাঙ্গে লুকিয়ে ইয়াবা পাচারগোপনাঙ্গে লুকিয়ে ইয়াবা পাচার
পায়ুপথে ইয়াবা পাচার
পায়ুপথে ইয়াবা পাচার
কুমড়ার ভেতরে ইয়াবা পাচার
কুমড়ার ভেতরে ইয়াবা পাচারকুমড়ার ভেতরে ইয়াবা পাচার
পঙ্গুত্বকে পুঁজি করে ইয়াবা পাচার
পঙ্গুত্বকে পুঁজি করে ইয়াবা পাচার
মোটর সাইকেলে ইয়াবা পাচার
মোটর সাইকেলে ইয়াবা পাচার
বৈদ্যুতিক পাখার ভিতরে ইয়াবা পাচার
বৈদ্যুতিক পাখার ভিতরে ইয়াবা পাচার
কাঠের চেয়ারে ইয়াবা পাচার
কাঠের চেয়ারে ইয়াবা পাচার
নারীর পেটে ইয়াবা পাচার
নারীর পেটে ইয়াবা পাচার
আখের ভেতরে ইয়াবা পাচার
আখের ভেতরে ইয়াবা পাচার
নারকেলের ভিতরে ইয়াবা পাচার
নারকেলের ভিতরে ইয়াবা পাচার
শুটিংয়ের আড়ালে ইয়াবা পাচার
শুটিংয়ের আড়ালে ইয়াবা পাচার
পায়ে ইয়াবার প্যাকেট বেঁধে পাচার
পায়ে ইয়াবার প্যাকেট বেঁধে পাচার
গ্যাস সিলিন্ডারে ইয়াবা পাচার
গ্যাস সিলিন্ডারে ইয়াবা পাচার
ফ্রিজে করে ইয়াবা পাচার
ফ্রিজে করে ইয়াবা পাচার

জাগোনিউজের এক প্রতিবেদনের মতে, কয়েক বছর আগে বাকলিয়া থানায় দায়িত্ব পালন করা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন জাগো নিউজকে জানান এ রুটে ইয়াবা পাচার নিয়ে তার বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা।

মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘আমি বাকলিয়া থানার ওসি থাকাকালীন কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু চেক পোস্টে যানবাহনে তল্লাশি চালাতে গিয়ে দেখেছি, কতভাবে ইয়াবা পাচার করছে অপরাধীরা। উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বেশ কয়েক বছর আগে আব্দুল আউয়াল নামে একজনের ল্যাপটপে তল্লাশি চালিয়ে তিনশ’ পিস ইয়াবা পেয়েছিলাম।

শুধু তাই নয়, জুতার তলায়, ছাতার ভেতর, চানাচুরের প্যাকেটে, আসবাবপত্রের জয়েন্টে, গাড়ির বিভিন্ন অংশে, এলপি গ্যাস সিলিন্ডারে, সুপারির ভেতর, ক্যামেরায়, মোবাইল সেটে এমনকি নারীদের গোপনাঙ্গ ও পুরুষের পায়ুপথ ব্যবহার করেও ইয়াবা পাচারের ঘটনাও ঘটেছে।’