বাড়ি অদ্ভুতুড়ে টেকনাফে ৪টি বাড়ি ও একাধিক স্ত্রী ছিল রোহিঙ্গা নূর মোহাম্মদের!

টেকনাফে ৪টি বাড়ি ও একাধিক স্ত্রী ছিল রোহিঙ্গা নূর মোহাম্মদের!

44

টেকনাফে সম্প্রতি এক রোহিঙ্গা নেতার কিশোরী কন্যার কান ফোঁড়ানো উপলক্ষে এক রাজকীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে অতিথিদের কেউ এনেছেন স্বর্ণালঙ্কার আবার কেউ এনেছেন রুপা। অনেকে নগদ টাকা আবার কেউ কেউ ছাগলও নিয়ে এসেছেন।

ধীরে ধীরে আয়োজকের বাড়ি উপহার সামগ্রীর স্তূপে পরিণত হয়। একইভাবে বস্তা ভর্তি হয়ে যায় টাকায়।

গত ২২ আগস্ট টেকনাফের ‘দুর্ধর্ষ রোহিঙ্গা ডাকাত’ নূর মোহাম্মদের কিশোরী মেয়ের কান ফোঁড়ানো অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা এভাবে উপহার নিয়ে আসেন। তাদের কাছ থেকে এক কেজি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ৪৫ লাখ টাকাসহ আরও নানা উপহার পাওয়া গেছে। এ যেন রোহিঙ্গা রাজকন্যার কান ফোঁড়ানোর রাজকীয় উৎসব!

গতকাল শুক্রবার রাতে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেন টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ।

তিনি জানান, নূর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা, ডাকাতি, অপহরণসহ অনেক মামলা রয়েছে এবং তিনি মোস্ট ওয়ানটেড আসামি।

ওসি প্রদীপ বলেন, ‘কান ফোঁড়ানোর অনুষ্ঠানে এ রকম উপহার সামগ্রী উঠার বিষয়টি এলাকাবাসীর কাছ থেকে জেনেছি। এ ঘটনার পর থেকে রোহিঙ্গা নূর মোহাম্মদকে ধরার জন্য কয়েক দফা অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু তিনি তার বিশাল অস্ত্রধারী ডাকাত বাহিনী নিয়ে টেকনাফের গহীন পাহাড়ে আশ্রয় নিয়েছে। তাই তাকে ধরা যাচ্ছে না।’

ওসি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গা নূর মোহাম্মদের বাংলাদেশে চারটি বাড়ি রয়েছে। তার মধ্যে একটি পাকা ভবন, একটি দোতলা, একটি টিনের ঘর এবং অপরটি বাগান বাড়ি। রোহিঙ্গারাই তাদের “ওস্তাদের” কন্যার কান ফোঁড়ানোর অনুষ্ঠানে রীতিমত প্রতিযোগিতা করে উপহার সামগ্রী দিয়েছে। যে কারণেই এরকম অস্বাভাবিক পরিমাণে উপহার উঠেছে।’

এ বিষয়ে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী জানান, গত ২২ আগস্ট রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের দিনই রোহিঙ্গা নূর মোহাম্মদ তার মেয়ের কান ফোঁড়ানোর অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। এতে গরু-ছাগল জবাই করে বড় ভোজ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আমন্ত্রিতদের অধিকাংশই রোহিঙ্গা ডাকাত, সন্ত্রাসী ও রোহিঙ্গা ইয়াবা কারবারির দল।

তিনি আরও জানান, ১৯৯২ সালে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা নূর মোহাম্মদ হ্নীলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জাদিমুরা এলাকায় এসে প্রথমে বাসা ভাড়া নিয়ে ছিলেন। ধীরে ধীরে সেখানেই জমি কিনে বাড়ির মালিক হন। এ পাড়ে আশ্রয় নেওয়ার পর ওপারের রোহিঙ্গাদের নিয়ে তিনি সীমান্তের বিশাল ডাকাত বাহিনী গড়ে তোলেন।

ওই এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি বলেন, ‘এ রকম রাজকীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করা রোহিঙ্গাদের জন্য কোনো ব্যাপার না। এখানে সবাই এখন ধনাঢ্য। অনেক রোহিঙ্গাই এবার ঈদুল আজহায় আড়াই লাখ টাকার বেশি মূল্যের গরু কোরবানিও দিয়েছে।’

এ ছাড়া কান ফোঁড়ানোর অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার জন্য স্বনামধন্য শিল্পীদেরও মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে আনা হয় বলেও জানান তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নূর মোহাম্মদের ডাকাত বাহিনী অপহরণ, ডাকাতি, ছিনতাই, মানব পাচার এবং সর্বশেষ সীমান্তের এক চেটিয়া ইয়াবা কারবারও হাতে নেন। দুই বছর আগে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের পর নূর মোহাম্মদের ক্ষমতা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তারা এলাকার পাঁচ থেকে ছয়টি রোহিঙ্গা শিবির, টেকনাফের বিস্তৃত পাহাড়, সীমান্তের নাফ নদী ও নদীর ওপারের রাখাইনের অভ্যন্তরে থাকা ইয়াবা কারখানা ও গবাদি পশুর বাজারসহ একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে নেন। এসব কারণেই তার বাহিনীর সদস্যরা এখন কোটি কোটি টাকার মালিক।