বাড়ি অদ্ভুতুড়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আড়াই লাখ ডেঙ্গু আক্রান্ত, হাজারেরও বেশি মৃত্যু

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আড়াই লাখ ডেঙ্গু আক্রান্ত, হাজারেরও বেশি মৃত্যু

54

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ফিলিপাইনে এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ। এর মধ্যে মারা গেছে এক হাজার ২১ জন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কর্মকর্তারা। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে চীনা সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি এনরিক ডোমিনগো বলেন, ‘চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগে মৃতের সংখ্যা ১০২১। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৬২২ জন।’

তিনি বলেন, ‘মারা যাওয়া ১০২১ জনের মধ্যে ৪০ শতাংশই হচ্ছে শিশু, যাদের বয়স ৫ থেকে ৯ বছরের মধ্যে।’ স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব মতে, চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ৪৯ হাজার ৩৩২। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১৯ হাজার ২২৪।

এর আগে গত ৬ আগস্ট ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবকে জাতীয় মহামারী হিসেবে ঘোষণা করে ফিলিপাইন। এর আগে গত জুলাইতে ‘জাতীয় ডেঙ্গু সতর্কতা’ জারি করেছিল দেশটি। আগস্টে মহামারীর ঘোষণা দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফ্রানসিস্কো দুকু বলেন, ‘সারা দেশে মহামারী ঘোষণার কারণ হলো, যেন কোন এলাকায় সাহায্য বেশি দরকার সেটি চিহ্নিত করা যায়। স্থানীয় সরকার বিষয়ক ইউনিটগুলোকে সক্রিয় করা দরকার যাতে করে মহামারী চলাকালে জরুরি তহবিল ব্যবহার করা যায়।’

উল্লেখ্য, ফিলিপাইনে প্রতি তিন-চার বছর পর পর ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। দেশটিতে সর্বশেষ প্রাদুর্ভাব দেখা গিয়েছিলো ২০১৬ সালে। এবার মিমারোপা, ওয়েস্টার্ন ভিসায়াস, সেন্ট্রাল ভিসায়াস ও নর্দার্ন মিন্দানাও-এর মতো অঞ্চলগুলোতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি। এসব এলাকায় ২ কোটিরও বেশি মানুষের বসবাস, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ।

বিশ্বজুড়ে গ্রীষ্মমন্ডলীয় দেশগুলোতে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব লক্ষ্যণীয়। এ রোগে যুগলসন্ধিতে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং গুরুতর ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট, রক্তক্ষরণ ও বিভিন্ন অঙ্গে অসাড়তা পরিলক্ষিত হতে পারে। তবে এ রোগ প্রাথমিকভাবে শনাক্তকরণ ও সঠিক চিকিৎসা সেবার মাধ্যমে মৃত্যুর হার ১ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব।