বাড়ি শিল্প সাহিত্য বোধনের “শান্তি ও সম্প্রীতি” অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনাকে নিবেদিত ৭১ কবিতার আবৃত্তি

বোধনের “শান্তি ও সম্প্রীতি” অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনাকে নিবেদিত ৭১ কবিতার আবৃত্তি

183

গত ১৩ সেপ্টেম্বর’১৯ শুক্রবার সন্ধ্যা ৬ টায় থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম মিলনায়তনে বোধন আবৃত্তি পরিষদ চট্টগ্রামের আয়োজনে ও মমতার সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয় বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিবেদিত ৭১ টি কবিতা নিয়ে আবৃত্তি অনুষ্ঠান “শান্তি ও সম্প্রীতি “

প্রফেসর আহমেদ রেজা সম্পাদিত এবং আনিস মুহম্মদের সংকলন ও অনুবাদ “Peace and Harmony” গ্রন্থ থেকে এসব কবিতা আবৃত্তি করা হয়। সমাজবিজ্ঞানী প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. অনুপম সেন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

তিনি বলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা আমাদের যে আলোর পথ দেখাচ্ছেন সেখান থেকে আমাদের দেশ এগিয়ে যাবে আমরা সেই আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে এগিয়ে যাবো।

বোধন আবৃত্তি পরিষদ চট্টগ্রামের আহবায়ক আব্দুল হালিম দোভাষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার, সাংস্কৃতিক সচিব কবি আজিজুর রহমান আজিজ, প্রধান আলোচক ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মোঃআবদুল মান্নান, অতিথি ছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠ সৈনিক বুলবুল মহলানবীশ, মুক্তিযুদ্ধ একাডেমি ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ড.আবুল আজাদ, মমতার প্রধান নির্বাহী লায়ন রফিক আহমদ এবং গ্রন্থের অনুবাদক আনিস মুহম্মদ।

প্রধান আলোচক বলেন,আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি এইখানে যারা আছেন সবাই শিল্প সাংস্কৃতিক প্রিয় না হলে এত ধৈর্য নিয়ে সবাই থাকতেন না।এই যে কবিতার গ্রন্থের নাম তা যথাযথ বলে আমার মনে হয় কারন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সত্যি শান্তির বার্তা বয়ে নিয়ে আসছে। আমার কাছে মনে হয় বঙ্গবন্ধুর যত গুন তা সব চাইতে বেশি শেখ হাসিনাকে প্রভাবিত করেছে।

পার্বত্য শান্তি চুক্তি, রাজাকারদের ফাঁসি নিশ্চিত, স্যাটেলাইট পাঠানো, পদ্মা সেতু, কর্ণফুলীতে টানেল, জি ডি পি প্রবৃদ্ধি এশিয়ায় কেউ এত তাড়াতাড়ি কেউ পারেনি যা সম্ভব হয়েছে শুধু মাত্র প্রধানমন্ত্রীর কারনে।

রোহিঙ্গা নিয়ে ওনার যে উদার ভাবনা তা বিশ্বে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে আজীবন মনে রাখবে তাইতো ওনাকে” মাদার অফ হিউমিনিটি” বলা হয়। মুক্তিযুদ্ধ একাডেমী ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ড.আবুল আজাদ বলেন,আমি চাই বোধন আমাদের সাথে কাজ করবে আমরা তাদের পাশে থাকব। তাদের এই কাজ সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেয়া উচিত। তাদের উচিত উত্তরসূরি রেখে যাওয়া যাতে এই রকম মহতী আয়োজন যুগ যুগ ধরে বাংলার মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে যেতে পারে।আবৃত্তি অনুষ্ঠানে এত দর্শক হয় আমি জানতাম না।

এই প্রথম দেখলাম।পারভেজ এর কন্ঠে আমার কবিতার যে আবৃত্তি শুনলাম আমার মনটা মুচড়ে উঠছিল এইটাই আবৃত্তির শক্তি। বোধন যে কতোটা সুচারু দক্ষ একটা সংগঠন এখানে না আসলে আমি জানতে পারতাম না।

এখানের তরুনরা অনেক উদীপ্ত যা আমাকে মুক্তিযুদ্ধ স্মরন করিয়ে দেয়। আমি ছোটবেলায় কেন্দ্রীয় কচিকাঁচা মেলা করতাম, সেখান থেকে বর্ষাবরন অনুষ্ঠান হতো। একবার সেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন “ওই যে আকাশে যে তারাটা দেখছ ওইখানে থাকে মা, এই যে মাটি এইটা হলো আমাদের দেশ আমাদের মা”

বঙ্গবন্ধু এইভাবে আমাদের মধ্যে দেশ্বাত্ববোধ ঢুকিয়ে দিতেন। আবৃত্তিশিল্পী প্রবীর পালের উপস্থাপনায় স্বাগত বক্তব্য দেন বোধনের স্থায়ী পরিষদ সদস্য প্রশান্ত চক্রবর্তী।শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বোধনের প্রতিষ্ঠাতা ও সদস্য সচিব সুভাষ বরণ চক্রবতী। আবৃত্তিশিল্পী মাইনুল আজম চৌধুরীরর নির্দেশনায় বৃন্দ আবৃত্তি “ভূমিকন্যা” দিয়ে কবিতা পাঠ শুরু হয়।

একক আবৃত্তি করেন আবৃত্তিশিল্পী পারভেজ চৌধুরী, জাভেদ হোসেন, প্রণব চোধুরী, রাজিউর রহমান বিতান, পিউ সরকার,জিকো সরকার, আফরোজা নীরু,হোসনে আরা তারিন, অসীম দাশ,সেহেলি হাসনাত,নিশি চোধুরী,রীমা দাশ,ইতু সাহা,সুতপা মজুমদার,মোহিনী সঙ্গীতা সিংহ,পৃথুলা চৌধুরী, মৃত্তিকা চক্রবর্তী, তারমিন পুষ্পা,প্রজ্ঞা পারমিতা।হোসনে আরা তারিন ও ইতু সাহার গ্রন্থনা, নির্দেশনায় বোধনের শিশুবিভাগের বৃন্দ পরিবেশনা ” বঙ্গবন্ধুর কন্যা অনন্যা ” দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।