বাড়ি আন্তর্জাতিক রোহিঙ্গা সমস্যার কি তবে সমাধান হচ্ছে?

রোহিঙ্গা সমস্যার কি তবে সমাধান হচ্ছে?

46

নিজ দেশের নাগরিকদের দেশে ফেরাতে আনুষ্ঠানিক সংলাপে চীনকে সম্পৃক্ত করে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ‘ত্রিপক্ষীয় যৌথ কার্যনির্বাহী’ ফোরাম গঠনে রাজি হয়েছে মিয়ানমার। রাতারাতি কোনো কিছু না হলেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে এই উদ্যোগ ভালো কাজে দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা । আর জাতিসংঘের স্থায়ী পরিষদের প্রভাবশালী সদস্য প্রক্রিয়াটিতে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক মোড় নেবে বলে মনে করছেন তারা।

চীনের মধ্যস্থতায় মিয়ানমারের সঙ্গে বৈঠকের পর গত মঙ্গলবার নিউইয়র্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সংকট সমাধানে কাজ করতে ‘যৌথ কার্যনির্বাহী ফোরাম’ গঠন করতে তিন দেশ সম্মত হয়েছে। ‘প্রস্তাবটি বৈঠকে তুলেছিল চীন। মিয়ানমার শুরুতে দায়সারা মনোভাব দেখালেও শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে।’ তিন দেশ যৌথভাবে সরেজমিনে নেমে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবে বলে তিনি জানান।

২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনের নিরাপত্তা চৌকিতে কথিত হামলার রেশ তুলে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর দমন অভিযান শুরুর করে। এরপর প্রায় আট লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। সেনাবাহিনীর ওই অভিযানকে জাতিসংঘ জাতিগত নির্মূল অভিযান হিসেবে অভিহিত করেছে। যদিও মিয়ানমারে বড়গলায় হত্যা-ধর্ষণ-জ্বালাও পোড়াওয়ের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

রোহিঙ্গাদের দাবি, প্রত্যাবাসনের জন্য আগে তাদের নাগরিকত্ব দিতে হবে। জমি-জমা ও ভিটেমাটির দখল ফেরত দিতে হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। রাখাইনে তাদের সঙ্গে যা হয়েছে, সেজন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অন্যদিকে মিয়ানমার প্রত্যাবাসন শুরু করতে না পারার জন্য বাংলাদেশকে দুষছে।

এ সংকটের সুরাহার লক্ষ্যে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সময় চীনের মধ্যস্থতায় মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে এ বৈঠক হয়। এর আগে গত এক মাস ধরে কক্সবাজারে শরণার্থী শিবির পরিদর্শনসহ প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে চীনের পদক্ষেপ ছিল লক্ষ্যণীয়। রোহিঙ্গা সংকট শুরুর দুই বছরের মাথায় মিয়ানমারের ঘনিষ্ট বন্ধু রাষ্ট্র চীন নিপীড়িত এই জনগোষ্ঠীকে স্বভূমে ফেরাতে অনেকটাই সক্রিয় হয়ে ওঠে।

এদিকে চীনের উদ্যোগে ত্রিপক্ষীয় যৌথ কার্যনির্বাহী ফোরাম গঠনকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছেন সমাজের বিশিষ্টজনেরা। তাদের মতে এই ফোরাম গঠনে রোহিঙ্গা সমস্যা রাতারাতি সমাধান না হলেও তবে থমকে থাকা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটিতে আশার আলো প্রতীয়মান হচ্ছে।

তাদের মতে, ‘শরণার্থী প্রত্যাবাসনের বিষয়টি একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়া। চীনকে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় ফোরামটি প্রত্যাবাসনে সাহায্য করবে। চীন যদি আন্তরিক থাকে তবে এই ফোরাম ভালোই কাজ দেবে।’

চীনের সংবাদমাধ্যম শিনহুয়া জানিয়েছে, সোমবার জাতিসংঘের সদর দপ্তরে চীন, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে বৈঠকে তিন দফা সমঝোতা হয়। এর অন্যতম হলো- রাখাইন রাজ্য ও মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্ত অঞ্চলগুলোতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য মৌলিক পরিস্থিতি তৈরিতে সহায়তার লক্ষ্যে চীন-মিয়ানমার পাশাপাশি চীন-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাসহ ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করা।

এ ছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শীগ্রই উদ্যোগ নেওয়া এবং তিন দেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর রাজনৈতিক নির্দেশনায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কাজ এগিয়ে নিতে ‘চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।