বাড়ি ঢাকা ১ টি এলইডি বাল্ব ৬৫ হাজার টাকা

১ টি এলইডি বাল্ব ৬৫ হাজার টাকা

142
সংগৃহীত

শহরের অবকাঠামো গত উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) ৪৪ হাজার ৫৯৮টি এলইডি বাল্ব ক্রয় করেছে ২৮৯ কোটি টাকা দিয়ে অর্থাৎ প্রতিটি বাল্বের জন্য গড়ে ৬৪ হাজার ৮০১ টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে।  বুধবার নিউ এজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। 

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের কার্যনির্বাহী কমিটির এক বৈঠকে ডিএসসিসির দ্বিতীয় সংশোধিত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়।

এতে আরো বলা হয়, এলইডি বাল্বগুলোর অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যের ফলে ডিএসসিসির অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে ১ হাজার ৭১৯ কোটি হয়েছে। অথচ মূল প্রকল্প ব্যয় ছিল ১ হাজার ২০২ কোটি টাকা। ২০১৮ সালে প্রথম সংশোধিত বাজেটে এই প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে ১ হাজার ২১৬ কোটিতে দাঁড়িয়েছিল।  

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ডিএসসিসি এই প্রকল্পের উদ্যোগ নিয়েছিল যা ২০১৮ সালের মধ্যেই বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। অথচ পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় দুইবার বাড়ানো হয়। প্রথমে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। এখন এই প্রকল্পটি শেষ করার জন্য ২০২১ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের জানান, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের এলইডি বাল্বের উচ্চমূল্যের বিষয়টি দেখতে বলা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই ব্যাপারে আলোচনাও হচ্ছে। এসব কারণে উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তাদের এই বিষয়টির ব্যাখ্যা দিতে বলেন।

পরে এ বিষয়ে একজন কর্মকর্তা জানান, বিবিধ আইটেম এবং তাদের ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করার জন্য তিনি মন্ত্রণালয়কে বলেছেন। তিনি আরো জানান, এই জাতীয় নির্দেশের অভাবে তারা অতীতে প্রকল্পের ব্যাপারে বিস্তারিত পরীক্ষা করে দেখতে পারেননি।

এদিকে এই বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এটিকে দুর্নীতি বলে উল্লেখ করেন।

কারন এর আগেও বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অস্বাভাবিক ব্যয়ের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্রই এর উদাহারণ হতে পারে,  এই প্রকল্পে রাশিয়ান বিশেষজ্ঞদের বাসভবনের জন্য বালিশসহ বিভিন্ন দ্রব্য ক্রয়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠে। তদন্তে দেখা গেছে, রাশিয়ান বিশেষজ্ঞদের ৯৬৬টি অ্যাপার্টমেন্টের গৃহস্থালী দ্রব্য এবং আসবাবের জন্য ১১৩.৬২ কোটি  টাকা ব্যয় হয়েছে। অথচ এসবের মূল্য ৭৭.২২ কোটি টাকার বেশি হওয়ার কথা ছিল না। যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর দেশ জুড়ে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল।