বাড়ি প্রধান খবর পুলিশের সুযোগ-সুবিধা দ্বিগুন করেছি: প্রধানমন্ত্রী

পুলিশের সুযোগ-সুবিধা দ্বিগুন করেছি: প্রধানমন্ত্রী

235

প্রত্যেক থানায় বর্তমানে অফিসার ও পদের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে যেখানে পূর্বে ছিল ১০-১৫ জন। পদোন্নতি সহ নানা সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে বহুগুন।  আর এটি আপনারা হিসাব করে দেখুন আগে সুযোগ কেমন ছিল আর এখন কেমন। কিছু চাওয়ার  আগেই তা পেয়ে যাচ্ছেন অনায়াসে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ পুলিশ সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা যাতে স্বাচ্ছন্দে ও সচ্ছলতার সাথে চলতে পারে এজন্য তাদের দাবি তোলার আগেই আমি পূরণ করেছি। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় এসে দেখি পুলিশের বাজেট ৪০০ কোটি টাকা। তখন আমরাই বাজেট দ্বিগুণ করি। সেসময় পুলিশ রেশন পেতো ২০ শতাংশ। সেটাও আমরা দ্বিগুণ করে দিয়েছিলাম। তখনকার অর্থনৈতিক অবস্থা ততটা ভালো ছিল না। তারপরও সাধ্যের মধ্যে যতটুকু সম্ভব তা আমরা করেছি। প্রতি বছর পুলিশ সপ্তাহ আসলে দাবি আসে। গতকাল (রোববার) আমি আপনাদের দাবির বিষয়ে যা বলার বলে দিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরই বাংলাদেশ লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়। জাতির পিতাকে হত্যার পর আপামর জনসাধারণ উন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়। ছয় বছর পর প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে আমি দেশে ফিরে আসি। এরই মধ্যে খুনিরা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল। কারণ তাদের বিচার না করতে ইনডেমনিটি জারি করা হয়েছিল। যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতি করার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। ১৯৮১ সালে বাংলাদেশে আসার পর আমি পুরো দেশ ঘুরে বেড়াই। মাইলের পর মাইল হেঁটে, ভ্যানে চড়ে বা নৌকায় করে ঘুরে দেখেছি। মানুষের অবস্থা জানার চেষ্টা করেছি। ২১ বছর পর দেশে আমি ক্ষমতায় আসি। তবে ধারাবাহিকভাবে ক্ষমতায় না থাকার কারণে উন্নতি করতে পারিনি। এবারই আমরা টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় ছিলাম। এখন পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগে দেশের অর্থনীতির অবস্থা ভালো ছিল না। আমরা ক্ষমতায় আসার পর বাজেট ৭-৮ গুণ বাড়াতে পেরেছি। টানা ক্ষমতায় থাকার কারণেই এটা করতে পেরেছি। তবে বিএনপি-জামায়াত জ্বালাও-পোড়াও, হরতাল মোকাবিলা করতে হয়েছে। তারা পুলিশ সদস্যদেরও হত্যা করেছে। আমরা এসব ব্যবস্থার মোকাবিলা করেই কাজ করছি।’

এসময় তিনি পুলিশ বাহিনীর জন্য একটি মেডিকেল ইউনিট করার ও ঘোষণা দেন।

পুলিশ বাহিনী প্রতিটি ক্ষেত্রে দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘১৯৯৬ সালে প্রথমে যখন সরকারে আসি তখন পুলিশ বাহিনীর রেশন বাড়িয়ে দিয়েছিলাম এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করেছিলাম। ঝুঁকিভাতা থেকে শুরু করে অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধি করেছিলাম। প্রমোশনের ব্যবস্থা করেছিলাম, লোকবলও বৃদ্ধি করেছিলাম। দ্বিতীয় দফায় যখন সরকারে আসি তখন পুলিশের জন্য কাজ করেছি। এবারও এসেই আমরা জনবল বৃদ্ধির দিকে নজর দিয়েছি।’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলেই আজ দেশ এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশকে আধুনিক ও জনবান্ধব করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমাদের সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পুলিশের জনবল আমরা ধাপে ধাপে বৃদ্ধি করেছি এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করেছি। নতুন নতুন পদ সৃষ্টি করে পুলিশের পদোন্নতির ব্যবস্থা করেছি। পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে আমরা নতুন নতুন ইউনিট করেছি। যা পুলিশ বাহিনীকে আরো শক্তিশালি ও গতিশীল করবে বলে আমরা মনে  করি।