বাড়ি আন্তর্জাতিক মিয়ানমারে মৃত্যুর মিছিল

মিয়ানমারে মৃত্যুর মিছিল

49
সংগৃহিত

মিয়ানমারে শুক্রবারও রাতভর সেনাঅভ্যুত্থান বিরোধী বিক্ষোভ চলেছে। দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াংগনের থারকেতা জেলায় এদিন পুলিশের গুলিতে দুই বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো খবর প্রকাশ করেছে।

খবরে বলা হয়, আটক বিক্ষোভকারীদের মুক্তির দাবিতে একদল বিক্ষোভকারী থারকেতা পুলিশ স্টেশনের বাইরে জড় হলে পুলিশ তাদের দিকে সরাসরি গুলি চালায়।

এদিকে, শনিবার আরো বড় বিক্ষোভ আয়োজনের ডাক দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সড়কে নেমে বিক্ষোভে ‍অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

১৯৮৮ সালের ১৩ মার্চ মিয়ানমারে সেনাশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ‌রেঙ্গুন ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ফোন মাও। পুলিশ ক্যাম্পাসের ভেতরই তাকে গুলি করে হত্যা করে।

মাও এবং কয়েক সপ্তাহ পর নিহত হওয়া আরেক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর মিয়ানমার জুড়ে সেনাশাসনের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। যেটা ৮-৮-৮৮ বিক্ষোভ নামে পরিচিত। ওই বিক্ষোভে প্রায় তিন হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হয়।

ওই বিক্ষোভের সময়ই গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান অং সান সু চি। তারপর থেকে প্রায় দুই দশক তাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়। ২০০৮ সালে তিনি গৃহবন্দি দশা থেকে মুক্তি পান।

গত ১ ফেব্রুয়ারি সু চির দল মিয়ানমারের নির্বাচিত এনএলডি সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতার দখল নেয় দেশটির সেনাবাহিনী। তারপর থেকে সেখানে সেনাঅভ্যুত্থান বিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও জাপান মিয়ানমারে গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারে এক জোট হয়ে কাজ করার প্রতিজ্ঞা করেছে। কিন্তু মিয়ানমারের বড় মিত্র চীন এখনো সেনাঅভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে কোনো বক্তব্য দেয়নি। বরং তারা শুধু দেশটিতে শান্তি ফিরিয়ে আনার কথা বলছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে এবং চীন এ অভ্যুত্থানের বিষয়ে আগে থেকেই জানতো বলেও গুঞ্জন রয়েছে। যদিও চীন অভ্যুত্থানের বিষয়ে আগে থেকে জানার কথা অস্বীকার করেছে।