মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ০১:৫৭ অপরাহ্ন
                                           

আন্তর্জাতিক বিচার আদালত ইসরায়েলকে লাগাম টানতে বললেও যেসব প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে

জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত গাজায় গণহত্যা বন্ধে ইসরায়েলকে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলেছে, যদিও তারা যুদ্ধ বন্ধ করতে বলেনি।

এর আগে, গত ২৯শে ডিসেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ এনে মামলা করেছিল। ইসরায়েল অভিযোগটি “ভিত্তিহীন” বলে উড়িয়ে দেয়।

নেদারল্যান্ডসের হেগে শুক্রবারের শুনানিতে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অফ জাস্টিস – আইসিজের বিচারক এই মামলায় প্রথমবারের মতো কোনো নির্দেশ জারি করলো। কিন্তু মূল যে অভিযোগ- ‘গণহত্যা’, সেটির রায় আসতে দীর্ঘসময় এমনকি কয়েক বছরও লেগে যেতে পারে।

যদিও আদালত ইসরায়েলকে দক্ষিণ আফ্রিকার দাবি অনুযায়ী গাজায় সামরিক তৎপরতা বন্ধ করতে বলেনি, তারপরও আদালতের এই আদেশ যারা এ মামলার পক্ষে ছিল তাদের জন্য বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দক্ষিণ আফ্রিকা এক বিবৃতিতে বলেছে, “আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত ঐতিহাসিক, ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।”

আর ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মন্তব্য করেন, এই রায় প্রমাণ করে “কোনো রাষ্ট্রই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”

কিন্তু এটিকে দক্ষিণ আফ্রিকা বা ফিলিস্তিনিদের জন্য সম্পূর্ণ বিজয় বলা যায় না। কারণ প্রশ্ন উঠছে ইসরায়েল আদালতের এ আদেশ মানবে তো?

জাতিসংঘের শীর্ষ আদালত গাজার পরিস্থিতিকে ভয়াবহ বিপর্যয়মূলক বলে স্বীকৃতি দিয়েছে।

আইসিজে দেখতে পায় যে এটি বিচারের আওতায় পড়ে এবং মনে করে যে সম্ভবত ১৯৪৮ সালের জেনেভা কনভেনশন মানা হয়নি, যাতে করে গাজায় ফিলিস্তিনি জনগণ অপূরণীয় ক্ষতির হুমকির মধ্যে আছে।

ফলে আদালত ইসরায়েলের কাছে বেশ কিছু দাবি জানিয়েছে, যার বেশিরভাগই আসলে দক্ষিণ আফ্রিকা যে নয়টি “সাময়িক পদক্ষেপ” গ্রহণের আবেদন জানিয়েছিল তার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

আদালত ১৭ জন বিচারকের মধ্যে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে আদেশ দেয় যে, ইসরায়েল প্রশাসনকে ফিলিস্তিনিদের হত্যা, তাদের মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক আঘাত, গাজার বসবাসের অযোগ্য পরিবেশ অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে ফিলিস্তিনিদের জন্মগ্রহণে বাধা দেয়া এসব কিছু এড়ানোর জন্য সম্ভাব্য সবকিছুই করতে হবে।

একইসাথে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর উদাহরণ দিয়ে বলা হয় জনগণকে গণহত্যায় প্ররোচনা দেয়া ‘ঠেকাতে ও শাস্তির আওতায় আনতে’ ইসরায়েলের আরও বেশি চেষ্টা করা উচিত।

এছাড়া গাজার মানবিক বিপর্যয় মোকাবেলায় “জরুরি ও কার্যকরী” পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানানো হয়।

অস্ত্রবিরতির কথা উল্লেখ না থাকলেও, যে সমস্ত দাবি দাওয়া ইসরায়েলের কাছে তোলা হয়েছে সেগুলো যদি বাস্তবায়ন হয় তাহলে গাজায় চলমান ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।



ফেইসবুক পেইজ