শুক্রবার, ১৭ মে ২০২৪, ০৮:১২ পূর্বাহ্ন
                                           

আমরা শান্তিপূর্ণ, আওয়ামী লীগ লাঠিসোঁটার কথা বলছে

পুরো আন্দোলন বিএনপি সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে করছে। আগামীকাল ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশও শান্তিপূর্ণ হবে। কথা হচ্ছে, আমরা তো শান্তিপূর্ণ। কিন্তু আওয়ামী লীগ লাঠিসোঁটার কথা বলছে, গজারি নিয়ে মাঠে নামার কথা বলছে, লগি-বইঠার মতো (২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর) পরিস্থিতি সৃষ্টি করার হুমকি দিচ্ছে। এর পরিষ্কার ইঙ্গিত হচ্ছে তারা দেশকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বিএনপি মহাসমাবেশের কর্মসূচি দিয়েছে, এর পাল্টা সমাবেশের কোনো সুযোগ নেই। পাল্টা কর্মসূচি মানে আমাদের সাংবিধানিক অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করার প্রক্রিয়া। এর উদ্দেশ্য, বিএনপির মহাসমাবেশকে বাধাগ্রস্ত করা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বলা উচিত ছিল, আপনারা (আ.লীগকে) পরদিন দেন। আমার অবাক লাগে, যারা লাঠিসোঁটা, গজারি নিয়ে নামার কথা বলছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এটা সহিংসতার বার্তা দেয়। উদ্দেশ্য সংঘাত-সহিংসতার দিকে নিয়ে যাওয়া। জনগণের ওপর আস্থা হারিয়ে তাদের নির্ভরশীলতা এখন অস্ত্র, লাঠি, গ্রেপ্তারে।
আমাদের এত লোককে গুলি করে হত্যা করেছে, এত গ্রেপ্তার করেছে, প্রতিদিন বাসা-বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে, রাতের বেলায় আদালতে বিচারিক কার্যক্রম চালিয়ে এত লোককে সাজা দিচ্ছে, তারপরও আমরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান থেকে সরে যাইনি। আমাদের পুরো আন্দোলন সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ করেছি, সামনেও শান্তিপূর্ণ হবে।

সরকারি দল যতই উসকানি দিক, আমরা প্রভাবিত হচ্ছি না। এর আগেও তারা আমাদের কর্মসূচিতে আক্রমণ করেছে, বাস বন্ধ করে দিয়েছে। এটা নতুন কিছু না। তারপরও আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করে আসছি। এখনো আমরা সেভাবে এগোচ্ছি। এসব বাধা-প্রতিবন্ধকতা, হামলার উদ্দেশ্য হচ্ছে যাতে বিরোধী দল কর্মসূচি করতে না পারে।

২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশ শুধু বিএনপি নয়, সমগ্র জাতির ঐকমত্যের প্রতিফলন। এটি হচ্ছে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য জাতির যে প্রত্যয়, সেটির বহিঃপ্রকাশ। সেদিন আমরা বসে পড়ার কোনো কর্মসূচি দিইনি। বসে পড়লে তো বসার কর্মসূচিই দিতাম। তাই পরবর্তী কর্মসূচির জন্য নেতা–কর্মীদের নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যেতে বলা হয়েছে।
সংলাপ গণতন্ত্রের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। কীভাবে নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হতে পারে, সে ব্যাপারে সংলাপে অসুবিধা নেই। পুরো জাতির আন্দোলনটা হচ্ছে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য।

সবার মধ্যে ঐকমত্য সৃষ্টি হয়েছে যে শেখ হাসিনা বা এই সরকারের অধীনে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার সুযোগ নেই। তা না হলে গণতান্ত্রিক বিশ্বের এত তৎপরতা, এত উদ্যোগ-নিষেধাজ্ঞা আসছে কেন? দেশে–বিদেশে সবাই বুঝতে পেরেছে, শেখ হাসিনা সরে না দাঁড়ালে স্বচ্ছ নির্বাচন হবে না। তাই একটি অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য নিরপেক্ষ সরকারের রূপরেখা কী হবে, সেটা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।



ফেইসবুক পেইজ