সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ১০:৫০ পূর্বাহ্ন
                                           

জাতিসংঘের তিন বিশেষজ্ঞের বক্তব্য মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির ক্রমেই অবনতি ঘটছে বলে জাতিসংঘের তিনজন বিশেষজ্ঞ যে মন্তব্য করেছেন, তাকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশপ্রণোদিত’ বলছে সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, সরকারকে হেয় করার উদ্দেশ্যে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা মিথ্যা ও বানোয়াট এসব তথ্য দিয়েছেন।

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ১৪ নভেম্বর প্রচারিত জাতিসংঘের তিনজন বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ারের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়েছে।
১৪ নভেম্বর জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (ওএইচসিএইচআর) একটি বিবৃতি দেয় উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ওই বিবৃতিতে স্পষ্ট, তাঁরা (তিন র‌্যাপোর্টিয়ার) মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতিতে বাংলাদেশ সরকারের আন্তরিকতা, সদিচ্ছা ও চেষ্টাকে পুরো অস্বীকার করে নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ দিচ্ছেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল মূলত আমাদের দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি, শ্রমিক অসন্তোষ, রাজনৈতিক সহিংসতা, ড. মুহাম্মদ ইউনূস, মানবাধিকারকর্মী আদিলুর রহমান খান এবং সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ বিষয়ে।

বিবৃতি দেওয়া জাতিসংঘের তিনজন বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার হলেন আইরিন খান, ক্লেমেন্ট নিলেতসোসিভোল ও মেরি লওর। তাঁরা বাংলাদেশ সরকারের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সুরক্ষার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিবৃতির মাধ্যমে তাঁদের এ বক্তব্য ও প্রশ্ন তোলার বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা এমন সময়ে এই মন্তব্য করেছেন, যখন বাংলাদেশ সর্বজনীন মানবাধিকারের পর্যায়ক্রমিক পর্যালোচনায় (ইউপিআর) অংশ নিয়েছে। ১৩ নভেম্বরের এ পর্যালোচনায় অধিকাংশ দেশ বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে। মনে হচ্ছে জাতিসংঘের বিশেষ দূতেরা বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে সরকারকে হেয় করার ইচ্ছার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। তাঁদের একতরফা পর্যবেক্ষণ, বিশেষ করে তাদের সঙ্গে সরকারের সক্রিয় সম্পৃক্ততার প্রেক্ষাপটে অসৎ উদ্দেশ্যমূলক বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এটা করার মাধ্যমে তাঁরা বিশেষজ্ঞ হিসেবে তাঁদের জাতিসংঘের পদকে হেয় করেছেন। তাঁরা তাঁদের ব্যক্তিগত ও পক্ষপাতদুষ্ট মতামত প্রচারের জন্য জাতিসংঘ মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের গণমাধ্যম শাখার অপব্যবহার করেছেন।



ফেইসবুক পেইজ