বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ০২:৪১ অপরাহ্ন
                                           

ভিসা নীতির ‘দুশ্চিন্তা’ কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি শেয়ারবাজার

মার্কিন ভিসা নীতির দুশ্চিন্তায় গতকাল রোববারের বড় দরপতনের পর আজ সোমবার ঊর্ধ্বমুখী ধারায় শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয়। ঊর্ধ্বমুখী এ ধারা শেষ পর্যন্ত বজায় থাকবে কি না, সেটি দেখতে অপেক্ষা করতে হবে লেনদেন শেষ না হওয়া পর্যন্ত।

আজও লেনদেনের শুরুতে লেনদেনের শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে বিমা খাতের কোম্পানি ইউনিয়ন ইনস্যুরেন্স। লেনদেন শুরুর প্রথম ১০ মিনিটে ইউনিয়ন ইনস্যুরেন্সের শেয়ারের দাম ২ শতাংশ বা দেড় টাকার মতো বেড়েছে।

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে গতকাল প্রথম কয়েক মিনিটের মধ্যে এটির শেয়ারের সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধি হয়েছিল; পাশাপাশি লেনদেনেও ছিল শীর্ষ অবস্থানে। আজও সেই ধারা ধরে রেখেছে কোম্পানিটি। ইউনিয়ন ইনস্যুরেন্সের পাশাপাশি আজ লেনদেনের শুরুতে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ছিল বিমা খাতের বেশির ভাগ শেয়ার।
প্রায় এক সপ্তাহ ধরে শেয়ারবাজারের লেনদেন অনেকটা বিমা খাতনির্ভর হয়ে পড়েছে। বাজারের মোট লেনদেনের অর্ধেকেরও বেশি এ খাতের। ফলে, এ খাতের শেয়ারের মূল্য সংশোধন করা হলে তার সার্বিক প্রভাব পড়ে বাজারে। তাতে লেনদেনেরও পতন হয়।

এদিকে, ভিসা নীতির দুশ্চিন্তায় বাজারে তার যে প্রভাব গতকাল দেখা গেছে, সেখান থেকে শেষ পর্যন্ত বাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না, সেটিই দেখার বিষয়। এ জন্য অপেক্ষা করতে আজ লেনদেনের শেষ সময় পর্যন্ত। তবে বাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারের পতন ঠেকাতে আজ সকাল থেকে সক্রিয় রয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। গুজব ছড়িয়ে কেউ যাতে বাজারে পতন ঘটাতে না পারে, সে জন্য তদারকি বাড়িয়েছে বিএসইসি।

গতকাল দেশের শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হয়েছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ফ্লোর প্রাইসে আটকে থাকা কোম্পানি বাদে এদিন হাতবদল হওয়া ৯২ শতাংশ শেয়ারেরই দাম কমেছে। একই সঙ্গে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৯ পয়েন্ট কমে নেমে এসেছে ৬ হাজার ২৮১ পয়েন্টে। পাশাপাশি আগের দিনের চেয়ে লেনদেন কমেছে ২৩৫ কোটি টাকা বা ৩২ শতাংশ।

ডিএসইতে এদিন লেনদেন কমে নেমে এসেছে ৫০০ কোটি টাকায়। গত বৃহস্পতিবার এই শেয়ারবাজারে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৭৩৫ কোটি টাকা।

বাজার–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলাপে জানা যায়, মার্কিন ভিসা নীতি কার্যকরের ঘোষণার খবরে শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কারসাজির কারণে যেসব কোম্পানির শেয়ারের দাম কিছুদিন ধরে অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছিল, সেগুলোর দামই গতকাল সবচেয়ে বেশি কমেছে। যেমন ক্রিস্টাল ইনস্যুরেন্স, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, অগ্রণী ইনস্যুরেন্স, ফু-ওয়াং ফুড ইত্যাদি।

এসব কোম্পানির কোনো কোনোটির শেয়ারের দাম গত এক মাসে দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। এ ছাড়া কিছুদিন ধরে শেয়ারবাজারের লেনদেন কেন্দ্রীভূত হয়ে গিয়েছিল বিমা খাতে। গতকাল এসব খাতের বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দরপতন হওয়ায় লেনদেন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গেছে।

ঢাকার বাজারে গতকাল ৩১০টি প্রতিষ্ঠানের লেনদেন হয়। তার মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫০টির দাম নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির বেঁধে দেওয়া সর্বনিম্ন মূল্যস্তর বা ফ্লোর প্রাইসে আটকে ছিল। এর বাইরে হাতবদল হওয়া ১৬০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪৮টিরই দাম কমেছে, বেড়েছে মাত্র ১২টির দাম।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শীর্ষস্থানীয় একটি ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ নির্বাহী বলেন, মার্কিন ভিসা নীতি কার্যকরের খবরটি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে একধরনের দুশ্চিন্তা তৈরি করেছে। এ কারণে অনেকে এদিন নিজের শেয়ার বিক্রি করে দিয়ে সাইডলাইনে চলে গেছেন। বিক্রেতার তুলনায় বাজারে ক্রেতা ছিলেন কম। এতে লেনদেনও কমে গেছে।



ফেইসবুক পেইজ