বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ০১:৪০ অপরাহ্ন
                                           

রাউজানে অপহরণ মামলার আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের রাউজানে অপহরণ মামলার আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যা, পুলিশের কাজে বাধা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাতে অপহরণ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাউজান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আজিজুল হাকিম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। তবে মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের কোনো সংখ্যা উল্লেখ নেই।
পুলিশ জানায়, সিবলি সাদিকের (১৯) অপহরণের ১৪ দিনের মাথায় গতকাল সকালে রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার বালুটিলা এলাকায় উদ্ধার অভিযানে যায় পুলিশ। এ সময় সঙ্গে নেওয়া হয় অপহরণ মামলার আসামি উমংসিং মারমাকে (২৬)। আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সেখানে সিবলির দেহাবশেষ পাওয়া যায়। পরে দুটি পুলিশ ভ্যানে করে বেলা ১১টার দিকে দেহাবশেষ নিয়ে থানায় ফিরছিলেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) ২০ থেকে ৩০ জন পুলিশ সদস্য। এ সময় উত্তেজিত জনতা দুটি স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করেন। এরপর গাড়ি ভাঙচুর করে আসামি উমংসিং মারমাকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন তাঁরা। পুলিশ এ সময় কয়েকটি ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
গণপিটুনিতে নিহত উমংসিং মারমা রাঙামাটির বেতবুনিয়া ইউনিয়নের রঙ্গিপাড়া গ্রামের উথোয়াইমং মারমার ছেলে। এ ঘটনায় পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন রাউজান থানার ওসি আবদুল্লাহ আল হারুন (৪৬), এসআই শাহাদাত হোসেন (৩৫), এসআই কিশোর কুমার (৩২), সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আজিজুল হাকিম (২৯), এসআই কানু লাল (৪০), এএসআই শাহিদুল ইসলাম (৩৮) ও পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানের চালক।
এ বিষয়ে রাউজান থানার ওসি আবদুল্লাহ আল হারুন প্রথম আলোকে বলেন, মামলায় আসামির সংখ্যা এবং নাম রাখা হয়নি। দুটি মামলার আসামিদের সবাই অজ্ঞাতনামা। ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হবে। আসামি ছিনিয়ে নিয়ে হত্যার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, কয়েক হাজার নারী-পুরুষ মিলে তাঁদের আটকে দেন। তখন কয়েকটি ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়।

গত ২৮ আগস্ট রাতে রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নের পঞ্চপাড়া গ্রামের মুরগির খামার থেকে অপহরণের শিকার হন সিবলি সাদিক। তিনি ওই খামারের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে চাকরি করতেন। ঘটনার আট দিন পর অপহরণের মামলা নেয় পুলিশ। এরপর এই মামলার পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা সবাই সিবলির সঙ্গে একই খামারে চাকরি করতেন। এই মামলায় উমংসিং মারমা ছাড়া গ্রেপ্তার অন্য আসামিরা হলেন রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ির সুইংচিং মং মারমা (২৪), কাউখালীর বেতবুনিয়া ইউনিয়নের সাপমারা গ্রামের অংথইমং মারমা (২৫), আছুমং মারমা (২৬) ও উক্য থোয়াইং মারমা (১৯)।



ফেইসবুক পেইজ