বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ০২:৫৫ অপরাহ্ন
                                           

লোকসানে হতাশ ফরিদপুরের হাজারো পাটচাষি

সঠিকভাবে জাগ দিতে না পারায় এবার পাটের গুণগত মান ভালো হয়নি। এ কারণে বাজারে পাটের দাম কম। ফলে এবার কৃষকদের লোকসান হচ্ছে।

ফরিদপুরে বাজারে পাটের কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে চরম হতাশ হয়ে পড়েছেন পাটচাষিরা। অনেক শ্রম দিয়ে ও টাকা খরচ করে পাট আবাদের পর পাট বিক্রি করে তাঁদের বিঘাপ্রতি প্রায় পাঁচ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে।

পাটচাষিরা বলছেন, পাটকলমালিকেরা সিন্ডিকেট করায় বাজারে পাটের ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে না। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে পাটকলমালিকেরা বলেছেন, তাঁরা কোনো সিন্ডিকেট করেননি। বিশ্ববাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় এবং গুণগতমান ভালো না হওয়ায় এবার অনেক ব্যবসায়ীই বেশি দামে পাট কিনছেন না। এ কারণে পাটের বাজারে ধস নেমেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ফরিদপুরে ৮৮ হাজার ৩৩ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৭৪৮ মেট্রিক টন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘পাটচাষিদের দাম পাওয়া না পাওয়ার ব্যাপারে আমাদের কোনো হাত নেই। এটি কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের দেখার কথা। তবে চাষিরা পাট চাষ করে লাভবান না হলে ভবিষ্যতে আমাদের অর্থনীতির জন্য সংকট সৃষ্টি হতে পারে।’

এ বিষয়ে ফরিদপুরের জ্যেষ্ঠ বাজার বিপণন কর্মকর্তা সাহাদাত হোসেন বলেন, মৌসুমের শুরুতে পাটের মণ ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৩০০ টাকা ছিল। কিন্তু বর্তমানে পাট বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা দরে। এবার পাটের দাম কমার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মিলমালিকেরা পাট কিনছেন কম। যেসব ফড়িয়া পাট কিনে গুদামজাত করতেন তাঁরা পাট কিনছেন না মজুতের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থানের কারণে। পাশাপাশি চলতি বছর পাটের মান ভালো হয়নি। আবহাওয়া কৃষকের অনুকূলে ছিল না। বাজারে আসা অন্তত ৫০ ভাগের গুণগত মান ভালো না।
তবে কৃষকেরা বলছেন, বাজারে পাট আরও কম দামে বিক্রি হচ্ছে। এ বিষয়ে ফরিদপুর সদরের কানাইপুর বাজারের পাট ব্যবসায়ী মো. খোকন মাতুব্বর বলেন, মান অনুযায়ী প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৭০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৯০০ টাকা দরে।

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার চর যশোরদী ইউনিয়নের বাস্তপুটি গ্রামের কৃষক সুকণ্ঠ মণ্ডল বলেন, তিনি এ মৌসুমে ১২ কাঠা জমিতে পাট চাষ করে ১১ মণ পাট পেয়েছেন। গত বছর সমপরিমাণ জমি থেকে পাট পেয়েছিলেন ১৪ মণ এবং বিক্রি করেছিলেন ২ হাজার ৮০০ টাকা দরে। এবার পাট চাষ করে তিনি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে পাট চাষ করবেন কি না, তা নিয়ে সংশয়ের মধ্যে রয়েছেন।



ফেইসবুক পেইজ