বাড়ি প্রধান খবর দেশের একমাত্র আন্তর্জাতিক মানের বার্ন হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন করলেন ‘প্রধানমন্ত্রী’

দেশের একমাত্র আন্তর্জাতিক মানের বার্ন হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন করলেন ‘প্রধানমন্ত্রী’

137

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এখন থেকে দগ্ধ রোগীদের উন্নত চিকিৎসা দেশেই হবে। আগুনে দগ্ধ কাউকে চিকিৎসার জন্য যেন আর বিদেশ যেতে হবে না। এজন্য বাইরে থেকে উন্নত যন্ত্রপাতি আনার পাশাপাশি ডাক্তার ও নার্সদের বাইরে বিশেষ ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করে দেয়া হচ্ছে। দেশে চিকিৎসাসেবার মান উন্নত করতে যা যা করা দরকার আমরা তা করছি।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে বুধবার ‘শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একথা বলেন। ৫০০ শয্যার এই ইনস্টিটিউটে বিশ্বের সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতিসহ উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু আগুনে পোড়া রোগী নয়, যে কোনো রোগীর চিকিৎসার জন্য সব ব্যবস্থা করছি। স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা একান্ত কাম্য। সেই লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি বিভাগে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা হবে।’

পুড়ে যাওয়া মানুষের চিকিৎসায় ঢামেকের বার্ন ইউনিটের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালে নির্বাচন ঠেকানোর নামে এবং ২০১৫ সালে সরকার উৎখাতের নামে হাজার হাজার মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে, পেট্রোল বোমা মারা হয়েছে গাড়িতে। আগুন দিয়ে রেল পুড়িয়েছে, লঞ্চ পুড়িয়েছে, ৫৮২টি স্কুল পুড়িয়েছে। এখনো সেই পোড়া ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে মানুষ।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা গড়ে তুলি, বিএনপি-জামায়াত ধ্বংস করে। তাদের অগ্নিসন্ত্রাসে সে সময় পোড়া মানুষগুলোকে চিকিৎসা দিতে হয়েছে। আগুনে পুড়ে ৫০০ মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে। যারা গাড়ি-ব্যবসা হারিয়েছে, তাদের সাধ্যমতো সাহায্য করেছি। আহতদের অনেককে বিদেশ থেকেও চিকিৎসা করিয়ে এনেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বার্ন ইউনিটের চিকিৎসক ও নার্সদের বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমি ধন্যবাদ জানাই, আমাদের বার্ন ইউনিটে সীমিত শক্তি থাকা সত্ত্বেও যেভাবে কষ্ট করে সবাই, তাদের চিকিৎসা করেছে এবং এখনো অনেকের চিকিৎসা কিন্তু করতে হচ্ছে। অনেকে এখন কোনো কাজ করে খেতে পারে না। কাজ করবার ক্ষমতা তাদের নাই। সে ক্ষমতা হারিয়েছে ফেলেছে। এখন পর মুখাপেক্ষী হয়ে দিন কাটাচ্ছে। আমি আমার সাধ্যমতো তাদের সাহায্য করে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘পুরান ঢাকার নিমতলীতে যখন আগুন লাগে তখন বিষয়টি প্রয়োজন হয়ে পড়লো। আমরা দেখলাম প্রায়ই মানুষ অগ্নিদগ্ধ হয় কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা সেবা তারা পায় না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের দেশে জনসংখ্যা বেশি কিন্তু ডাক্তার ও নার্সের সংখ্যা কম। সে কারণে ডাক্তার ও নার্সের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করছি। পাশাপাশি আমরা তাদের বাইরে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রতিটি জেলার হাসপাতালগুলোকে উন্নত করার চেষ্টা করছি। সেখানেও বার্ন ইউনিট তৈরি করার চেষ্টা করছি। এছাড়া প্রত্যেক উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন তৈরি করে দিচ্ছি। এর জন্য যা যা যন্ত্রপাতি ক্রয় করা দরকার, তা আমরা করে দিচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বার্ন ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমাদের দ্বিতীয় মেয়াদের ৫ বছর সময় প্রায় শেষ। আগামী নির্বাচনে যদি আবার ক্ষমতায় আসতে পারি তাহলে বাকি কাজ শেষ করতে পারব। আর যদি ভোটে না আসতে পারি তাহলে বার্ন ইউনিটের মতো কার্যক্রম যেন থমকে না যায়। সে দিকে আপনারা সর্বদা খেয়াল রাখবেন।