বাড়ি প্রধান খবর প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে ঐক্যফ্রন্টের চি‌ঠি

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে ঐক্যফ্রন্টের চি‌ঠি

194
সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হা‌সিনা‌কে চি‌ঠি দি‌য়ে‌ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। রোববার সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর ধানম‌ণ্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপ‌তি শেখ হা‌সিনার রাজ‌নৈ‌তিক কার্যাল‌য়ে এই চি‌ঠি হস্তান্তর ক‌রেন।

ঐক্যফ্রন্টের প‌ক্ষে জগলুল হায়দার ও শ‌ফিউল্লাহ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড আব্দুস সোবহান গোলা‌পের নিকট পৌঁছে দেন। এসময় আওয়ামী লী‌গের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সু‌জিত রায় নন্দী ও সদস্য এস এম কামাল হো‌সেন উপ‌স্থিত ছি‌লেন।

আওয়ামী লী‌গের দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান ‌গোলাপ ব‌লেন, চি‌ঠি পে‌য়ে‌ছি। চি‌ঠি খু‌লে দে‌খিনি। পা‌র্টির সাধারণ সম্পাদক আস‌ছেন, চি‌ঠিটা তা‌কে দেব। আগামীকাল চি‌ঠির বিষয়‌ নি‌য়ে পা‌র্টি প্রধা‌নের স‌ঙ্গে কথা বল‌বো। তখন আমরা চি‌ঠির বিষয়বস্তু জান‌তে পার‌বো। পরবর্তী‌তে আমরা জানা‌বো।

গণ‌ফোরা‌মের প্রে‌সি‌ডিয়াম মেম্বার জগলুল হায়দার ব‌লেন, আমরা জাতীয় ঐক্যফ্র‌ন্টের পক্ষ থে‌কে আওয়ামী লীগ সভাপ‌তি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর চি‌ঠি দি‌য়ে‌ছি দল‌টির দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলা‌পের নিকট দি‌য়ে‌ছি। আমরা সাত দফা ও এগার‌টি লক্ষ্য ‌নিয়ে আওয়ামী লী‌গের সা‌থে সংলা‌পে বস‌তে চাই। নির্বাচনকে অবাধ সুষ্ঠু ও নি‌রো‌পেক্ষ করার ল‌ক্ষে্য আমরা যে দাবিগু‌লো রে‌খে‌ছি তা সংলা‌পের মাধ্য‌মে সমাধান করা যায় কিনা।

এমন চিঠি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) একেএম নূরুল হুদাকেও দেয়া হবে বলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এর আগে দুপুরে জোটের নেতারা জানান, নিজেদের প্যাডে ৭ দফা দাবি ও ১১টি লক্ষ্য সম্বলিত একটি চিঠি তৈরি। কিন্তু ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে রোববার সকালে চিঠি পৌঁছে দিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় গণভবন ও আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে যোগাযোগ করেও সাড়া মিলেনি।

দুপুরে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু জানান, ‘আজ সকালে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপকে ফোন দিয়েও পাইনি। গণভবনের দায়িত্বশীল কোনো ব্যক্তিকেও পাওয়া যায়নি। আমরা তো চিঠি তাদের টেবিলে রেখে আসতে পারি না। আমরা চেষ্টা করব আজকালকার মধ্যেই চিঠি পৌঁছে দিতে। কিন্তু সরকার পক্ষ সাড়া দিচ্ছেন না’।

সাত দফা হলো: ১. অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সরকারের পদত্যাগ, জাতীয় সংসদ বাতিল, সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার নিশ্চিত করতে হবে।

২. যোগ্যব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।

৩. নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে।

৪. কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ সবার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তিরনিশ্চয়তা দিতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সব কালো আইন বাতিল করতে হবে।

৫. নির্বাচনের ১০দিন আগে থেকে নির্বাচনের পর সরকার গঠন পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত ও নিয়ন্ত্রণে পূর্ণ ক্ষমতা ইসির ওপরে ন্যাস্ত করতে হবে।

৬. নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশি ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা ।

৭. নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে নির্বাচনের ফল চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত চলমান সব রাজনৈতিক মামলা স্থগিত রাখা ও নতুন কোনো ধরনের মামলা না দেয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

গত ১৩ অক্টোবর ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপিসহ চারটি দলের সমন্বয়ে নতুন রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আত্মপ্রকাশ করে। নিরপেক্ষ নির্বাচনসহ সাত দফা দাবি এবং ১১ দফা লক্ষ্যও ঘোষণা করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।