বাড়ি প্রধান খবর পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে গেলেন আমজাদ হোসেন

পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে গেলেন আমজাদ হোসেন

122
আমজাদ হোসেন

বাংলাদেশের প্রখ্যাত চলচিত্র নির্মাতা আমজাদ হোসেন মারা গেছেন। আজ শুক্রবার দুপুরে ব্যাংককে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। উল্লেখ্য যে, ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন আমজাদ হোসেন।

মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিলো ৭৬ বছর। আমজাদ হোসেনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি।

আমজাদ হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে জানা যায়, সকাল থেকেই আব্বার শারীরিক অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় তাঁর ব্লাড প্রেশার নেমে যায়। এক পর্যায়ে দুপুর ২টা ৫৭ মিনিটে তিনি মারা যান।

মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ায় গত ১৮ই নভেম্বর রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ইমপালস হাসপাতালে ভর্তি করা হয় আমজাদ হোসেনকে। শুরু থেকেই তাঁকে কৃত্রিম উপায়ে শ্বাসপ্রশ্বাস দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়। দেশের বরেণ্য এই নির্মাতার শারীরিক অসুস্থতার খবর শুনে হাসপাতালে ভর্তির তিন দিনের মাথায় তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রখ্যাত এ চিত্র পরিচালকের উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪২ লাখ টাকার চেক দেন। প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে আমজাদ হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৭শে নভেম্বর মধ্যরাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ব্যাংককে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আমজাদ হোসেন।

আমজাদ হোসেন ছিলেন একাধারে একজন আভিনেতা, লেখক এবং চলচ্চিত্র পরিচালক। ব্যতিক্রমধর্মী এ চলচ্চিত্র নির্মাতা তাঁর কর্মজীবনে ১২টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং ৬টি বাচসাস পুরস্কার অর্জন করেছেন। এছাড়া তিনি প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ছয়টি আলাদা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার আর্জন করেন।

দেশবরেণ্য চলচিত্র নির্মাতা জহির রায়হানের সাথে চলচ্চিত্র নির্মানের কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছিল আমজাদ হোসেনর। আমজাদ হোসেন পরিচালিত বাল্যবন্ধু, পিতাপুত্র, এই নিয়ে পৃথিবী, বাংলার মুখ, নয়নমনি, গোলাপী এখন ট্রেনে, সুন্দরী, কসাই, জন্ম থেকে জ্বলছি, দুই পয়সার আলতা, সখিনার যুদ্ধ, ভাত দে, হীরামতি, প্রাণের মানুষ, সুন্দরী বধূ, কাল সকালে, গোলাপী এখন ঢাকায়, গোলাপী এখন বিলেতে ইত্যাদি সিনেমা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

কিংবদন্তী এই চলচিত্র পরিচালক ১৯৭৮ সালে ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ এবং ১৯৮৪ সালে ‘ভাত দে’ চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া শিশু সাহিত্য রচনার জন্য তিনি ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে দু’বার অগ্রণী শিশুসাহিত্য পুরস্কার এবং ২০০৪ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান।

তিনি ১৯৬১ সালে ‘তোমার আমার’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে তাঁর। পরে তিনি চিত্রনাট্য রচনা ও পরিচালনায় মনোনিবেশ করেন এবং চলচ্চিত্র পরিচালনা করে খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘আগুন নিয়ে খেলা’ (১৯৬৭) নয়নমনি (১৯৭৬) গোলাপী এখন ট্রেনে  (১৯৭৮) ভাত দে (১৯৮৭) বহুল প্রশংসিত হন আমজাদ হোসেন। শিল্পকলায় অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদকে ভূষিত করে।