বাড়ি ছবিঘর বিশাল ব্যবধানে মহাজোটের হ্যাটট্রিক

বিশাল ব্যবধানে মহাজোটের হ্যাটট্রিক

199

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে হ্যাটট্রিক জয় পেল মহাজোট। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট নবম জাতীয় সংসদ থেকেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করছে। দশম জাতীয় সংসদের পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি।

প্রতিদ্বন্দ্বী জোট ও দলগুলোকে বহু পেছনে ফেলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করল মহাজোট।

নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সোমবার (৩১ ডিসেম্বর) ভোররাত ৪টার দিকে বেসরকারিভাবে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থীরা ২৮৮ আসনে জয়লাভ করেছেন। অন্যদিকে বিএনপি ও তার শরিক দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছে মাত্র ১০টি আসন।

তিনি আরও জানান, ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে তিনটি কেন্দ্র স্থগিত হওয়ায় সেখানে আবার ভোট হবে।

ফলাফল ঘোষিত হওয়া ২৯৮টি আসনের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২৫৯টি আসন, জাতীয় পার্টি ২০টি আসন, বিকল্পধারা বাংলাদেশ ২টি আসন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ৩টি আসন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ ২টি আসন, তরিকত ফেডারেশন ১টি এবং জাতীয় পার্টি-জেপি ১টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি ৫টি আসন ও গণফোরাম ২টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। এছাড়াও স্বতন্ত্র ৩ জন প্রার্থী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় পেয়েছেন।

স্থগিত থাকা দুটি আসনের ফলাফল কোনভাবেই প্রভাব ফেলবে না আওয়ামী লীগের সরকার গঠনে। চাইলে মহাজোটের শরিক দলগুলোকে ছাড়াও এককভাবেও নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে পারবে আওয়ামী লীগ। সেই হিসেবে ইতিহাস রচনা করে টানা তৃতীয় দফায় সরকার গঠন করবে দলটি।

আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের ফলে দশম জাতীয় সংসদের মতো প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় দেখা যেতে পারে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টিকে।

অন্যদিকে সরকারিবিরোধী প্রধান নির্বাচনী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে পুনঃনির্বাচন দাবি করেছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ৬টি আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। এতে ভোট পড়েছে ৫১ দশমিক ৪১ শতাংশ।

ইভিএমের আসনগুলো হলো ঢাকা-৬ ও ১৩, খুলনা-২, সাতক্ষীরা-২, রংপুর-৩ ও চট্টগ্রাম-৯। ৬টি আসনের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৪ প্রার্থী এবং দলটির নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির ২ জন প্রার্থী জয় পেয়েছেন।

এবারের নির্বাচনে ৩৯টি নিবন্ধিত দলই অংশ নেয়। মোট ১ হাজার ৮৬১ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৩৩ জন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী ১২৮ জন।

রোববার (৩০ ডিসেম্বর) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

ফলাফল প্রসঙ্গে রোববার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম বলেন, ‘দলীয় সরকারের অধীনে যে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু হওয়া সম্ভব তা এই নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে।’ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন এইচ টি ইমাম।

এইচ টি ইমাম বলেন, ‘বাংলার জনগণের নিরঙ্কুশ সমর্থনে, এই স্বাধীন-সার্বভৌম নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর সব কৃতিত্বের দাবিদার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যিনি সরকারপ্রধান হয়েও স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে সংবিধানের বিধান অনুযায়ী কীভাবে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হয়, তার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন।’