বাড়ি প্রধান খবর জনগণের আশার প্রতিদান দেব: প্রধানমন্ত্রী

জনগণের আশার প্রতিদান দেব: প্রধানমন্ত্রী

145

জনগণ যে আশা নিয়ে নৌকায় ভোট দিয়েছে, তাদের সেই আশা পূরণ করে তাদের ভালোবাসার  প্রতিদান দিতে চান  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ফার্মগেটস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির ভাষণে একথা বলেন।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পর পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর হাতে আটক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের এই দিনেই পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তাঁর স্বাধীন স্বদেশ ভূমে ফিরে আসেন। আর এর মাধ্যমেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিজয় পূর্ণতা লাভ করে।
দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু এবং তোফায়েল আহমেদ, সভাপতি মন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী এবং শেখ ফজলুল করিম সেলিম, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল- আলম হানিফ এবং জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহমান এবং আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম রহমতউল্লাহ এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন।

এই দিনটি বরাবরই নানা আনুষ্ঠানিকতার সঙ্গে স্মরণ করে আওয়ামী লীগ। এবারের আয়োজনের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বেশি এসেছে এবারের জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ।

গত ৩০ ডিসেম্বরের ভোটের কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, ‘আপনারা নৌকায় ভোট দিয়েছেন, যে আশা নিয়ে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করেছেন, আমরা তার প্রতিদান দেব, তাদের আশা পূরণ করব।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে টানা তৃতীয় দফা সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। আর ২০০৮ এর পর ২০১৪ এবং এবার জয় এসেছে আরও বড়। সারাদেশের ২৯৯টি আাসনের মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট পেয়েছে ২৮৮টি। বিএনপি ও তার জোট পায় সাতটি। আর একটি আসনে স্থগিত তিনটি কেন্দ্রে ভোটের পর এই সংখ্যাটি বেড়ে হয়েছে আটটি। আর একটি আসনে ভোট হবে ২৭ জানুয়ারি।

নির্বাচনে বিএনপির এই শোচনীয় হার নিয়ে তিনি বলেন, ২০১৩, ১৪ এবং ১৫ সালে বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের কোন সীমা ছিল না। ‘তারা তাদের অবরোধ ধর্মঘট শেষ পর্যন্ত চালিয়ে গেছে। প্রত্যাহার করে নেয়নি। অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, তা জনগণ মনে রেখেছে আর তাই তাদেরকে গ্রহণ করেনি । জনরোষের কারণে তাদের সকল আন্দোলন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

তবে বিএনপির পরাজয়ের কারণ প্রধানমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে: ‘বিএনপির যেসব প্রার্থী উইনেবল ছিল তারা কেউই মনোনয়ন পাননি। টাকা বেশি না দিতে পারায় তারা মনোনয়ন পাননি। সকালে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, তার চেয়ে বেশি টাকা দেওয়ার পর দুপুরে আরেকজন মনোনয়ন পান। বিকালে তার চেয়ে বেশি টাকায় পাওয়ায় সকাল ও দুপুরের প্রার্থী মনোনয়ন থেকে আউট হয়ে যান। এভাবে যে দল মনোনয়ন দেয় তাদের জনগণ কেন ভোট দেবে?’

‘তাদের অনেকেই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের দুঃখের কথা বলেছেন। একজন তো আমাদের দলে জয়েন করলেন।’
এবারে নির্বাচনে বিএনপির ব্যার্থতার কারণ বিএনপিকে ভাবতে হবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা যে অপকর্ম করেছিল তার কারণে জনগণ তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল। তারা অগ্নি সংযোগ করে মানুষ হত্যা কারণে জনগণ ভোট দেয়নি তাদের।’

নির্বাচন নিয়ে সমালোচনার জবাবে এবারের চেয়ে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আরও বেশি ভোট পড়ার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। এবারের নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৮০ শতাংশ। আর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ভোট পড়েছিল ৮৬ শতাংশ।


বাংলাদেশের উন্নয়নের সুফলটা দেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারাতেই ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয় হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে কারণে বাংলাদেশের জনগণ আজকে ভোট দিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেছে, যার ফলে আমরা আবার দেশের মানুষের সেবা করার সুযোগ পাচ্ছি।’
আওয়ামী লীগ সভাপতি এ সময় নৌকা এবং মহাজোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করায় সকল শ্রেণী-পেশার জনগণ তথা সমগ্র দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘সাধারণ মানুষ শান্তি চায়, নিরাপত্তা চায়, উন্নয়ন চায়, নিজের জীবনের উন্নতি চায়-সেই আকাঙ্খা থেকেই তাঁরা আমাদের ভোট দিয়ে সেবা করার সুযোগ দিয়েছে।’
১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমেই স্বাধীনতা পূর্ণতা লাভ করে উল্লেখ শেখ হাসিনা বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তাঁরা জানতে পারেন নি বঙ্গবন্ধু কি বেঁচে আছেন, না নেই। অথচ পাকিস্তানের কারাগার থেকে দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধু তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছে না গিয়ে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ভাষণের মাধ্যমে জাতিকে যে দিক নির্দেশনা দিয়ে গেছেন, সে অনুযায়ীই আওয়ামী লীগ সরকার পরিচালনা করছে।
তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার আদর্শ বুকে ধারণ করেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
বাঙালির জীবনে ১৫ আগস্টের বিয়োগান্তক ঘটনা না ঘটলে বাংলাদেশ আরো অনেক আগেই উন্নত সমৃদ্ধ হতে পারতো উল্লেখ করে তিনি বলেন, ’৭৫ পরবর্তী শাসকেরা বাংলাদেশের অস্তিত্বেই বিশ্বাসী ছিল না, যে কারণে দেশের কোন উন্নয়ন হয়নি এবং ২১ বছর পর ’৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরই জনগণ প্রথম উন্নয়নের ছোঁয়া লাভ করে।
তিনি ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিজয়ের প্রসংগ টেনে বলেন, ‘জনগণ ভোট দিয়ে আমাদের ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছে সেই বিশ্বাসকে মর্যাদা দিয়ে বাংলাদেশকে আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলবো ইনশাল্লাহ। সেই বিশ্বাস আমাদের আছে।’
প্রধানমন্ত্রী এ সময় বঙ্গবন্ধুর লেখা অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং কারাগারের রোজ নামচা বই ও ‘সিক্রেটস ডকুমেন্টস অব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’  বই গুলি পড়ার জন্য দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানান।