বাড়ি অপরাধ ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণ কাল! ধরাছোঁয়ার বাইরে গডফাদাররা

ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণ কাল! ধরাছোঁয়ার বাইরে গডফাদাররা

335
সংগৃহীত

দেশের চলমান মাদকবিরোধী অভিযান থেকে নিজ প্রাণ বাঁচাতে দেশে প্রথমবারের মতো মাদক ব্যবসায়ীদের একটি অংশ আত্মসমর্পণ করছে কাল শনিবার। কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সকাল ১০টায় এ আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।

জানা যায়, শনিবার সকালে  প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে প্রায় দেড়শ ইয়াবা ব্যবসায়ী আত্মসমর্পণ করবেন। তাদের মধ্যে ৫৮ জনই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী বলে দাবি করেছে প্রশাসন। তবে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের একটি অংশ আত্মসমর্পণ করলেও ধরাছোঁয়ার  বাইরে থেকে যাচ্ছেন ইয়াবা সাম্রাজ্যের গডফাদার এবং ইয়াবা ব্যবসায় জড়িতদের বড় একটি অংশ।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন শুক্রবার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘শনিবার শতাধিক ইয়াবা ব্যবসায়ী আত্মসমর্পণ করবেন। তবে এ সংখ্যা একটু কমবেশি হতে পারে। এদের মধ্যে চিহ্নিত এবং তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী রয়েছেন অর্ধশতাধিক।’

বিভিন্ন সূত্র মতে, পুলিশের সেফহোমে থাকা শীর্ষ ইয়াবা কারবারিদের কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইয়াবা পাচার, অর্থ লেনদেনসহ নানা বিষয় নিয়ে তথ্য দিয়েছেন। ইতোমধ্যে পুলিশ তা লিপিবদ্ধ করেছে। ওই তথ্য মতে, তাদের শীর্ষ ইয়াবা কারবারি বলা হলেও নেপথ্যে একটি শক্তিশালী চক্র রয়েছে। যে চক্রের সদস্যদের কারও নাম ইতোমধ্যে প্রশাসন বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো তালিকায় আসেনি। তারা নেপথ্যে অবস্থান করে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনায় সহযোগিতা করে থাকেন।

Image 02
আত্মসমর্পণের মঞ্চ নির্মানকালে

তাদের মতে, টেকনাফের কোনো ব্যক্তির ইয়াবা ব্যবসায় জড়াতে বিনিয়োগ করতে হয়না। মিয়ানমার থেকে বিনামূল্যে ইয়াবার চালান পাঠানো হয় টেকনাফের নির্ধারিত ব্যক্তির কাছে। পাঠানোর সময় তা কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে জব্দ হলে তার মূল্য পরিশোধ করতে হয় না। যে চালান নিরাপদে ব্যক্তি বিশেষের কাছে পৌঁছায় কেবল তারই মূল্য পরিশোধ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে মূল্য পরিশোধ করতে হয় দেশের মধ্যে। মিয়ানমারে সরাসরি কোনো টাকা বা অর্থ পাঠাতে হয় না। দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত নির্ধারিত এজেন্টরা এ টাকা সংগ্রহ করে থাকেন।

ইতোমধ্যে আত্মসমর্পণে আসা ব্যক্তিদের স্বীকারোক্তিতে এমন ৩০ এজেন্টের নাম পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ টাকা বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে পাচার করা হয় দুবাই ও সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত ইয়াবার মূল মালিকদের কাছে। আর দুবাই, সিঙ্গাপুর ঘুরে এ অর্থ পৌঁছায় মিয়ানমারে। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মনে করেন, ইয়াবা গডফাদারদের নেপথ্যে রয়েছে হুন্ডি ব্যবসায়ীরা। আর এসব হুন্ডি ব্যবসার নেপথ্যের ব্যক্তিরা রয়েছেন দুবাই এবং সিঙ্গাপুর।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুবাই, সিঙ্গাপুর এবং মালয়েশিয়া থেকেও মাদক ব্যবসায় জড়িত কিছু ব্যক্তি আত্মসমর্পণ করতে দেশে ফিরেছেন। ফলে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের নেপথ্যের ব্যক্তিদের শনাক্ত করাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মূল টার্গেটে পরিণত হয়েছে।

এর বাইরে টেকনাফের লামারবাজারের একটি বেকারি, একটি কাপড়ের দোকান, কক্সবাজার শহরের ঝাউতলা এলাকার বিকাশ এজেন্টের নামও এসেছে।

কিন্তু বরাবরের মতোই ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে যাচ্ছেন ইয়াবা সাম্রাজ্যের আলোচিত ব্যক্তি সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি, তার ভাই কাউন্সিলর মৌলভি মুজিবুর রহমান, ইয়াবা ডন হাজি সাইফুল করিম, টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদ, টেকনাফ সদর ইউপি চেয়ারম্যান শাহাজাহান মিয়া, বাহারছড়ার ইউপি চেয়ারম্যান মৌলভি আজিজ উদ্দিন ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন, টেকনাফের নুরুল হক ভুট্টো, ছিদ্দিক আহমদ।

এদিকে দেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিতব্য ইয়াবা কারবারি আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। অনুষ্ঠানের আয়োজন তদারকিতে জেলা পুলিশের পাশাপাশি বিভাগীয় পুলিশ কর্মকর্তা ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. জাবেদ পাটোয়ারীসহ অন্যরা বৃহস্পতিবার থেকে কক্সবাজারে অবস্থান করছেন। শুক্রবার এসেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানসহ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অন্যান্য পদস্থ কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, দীর্ঘদিন ধরে কঠোর অভিযান আর নানা পদক্ষেপেও দমন করা যায়নি ইয়াবা কারবারিদের। তবে দেরিতে হলেও দেশে অবস্থানরত চোরাচালানিরা এবং দেশের বাইরে পালিয়ে থাকা গডফাদাররাও আত্মসমর্পণে যুক্ত হয়েছে।