বাড়ি রাজনীতি সরকার বাজার নিয়ন্ত্র‌ণে ব্যর্থ- রুহুল কবির রিজভী

সরকার বাজার নিয়ন্ত্র‌ণে ব্যর্থ- রুহুল কবির রিজভী

76

বুধবার রাজধানীর নয়াপল্ট‌নে দ‌লের কেন্দ্রীয় কার্যাল‌য়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, রমহান মাসে সরকার বাজার নিয়ন্ত্র‌ণে একেবারেই ব্যর্থ।

তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষের প্রতি সরকারের কোনো দায় নেই। তারা (সরকার) জিম্মি অসাধু সিন্ডিকেটের কাছে। বাজারের দুষ্ট চক্র সিন্ডিকেট এখন বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। সরকার তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।’

‘কারণ, বাজারের নিয়ন্ত্রকরাই এখন সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করছে। গণতন্ত্র ধরাছোঁয়ার বাইরে। জনগণের ভোটের অধিকার হরণ শেষে এখন ভাতের অধিকার এবং ন্যায়বিচারের অধিকার কেড়ে নিতে তৎপর তারা।’

রাজধানীতে সিটি করপোরেশনের বেঁধে দেওয়া নির্ধারিত মূল্যে গরু ও খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে না, এ অভিযোগ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘রমজানে সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত মূল্য- গরুর মাংস প্রতি কেজি ৫২৫ টাকা এবং খাসির মাংস ৭৫০ টাকা। কিন্তু এখন বিভিন্ন এলাকায় প্রতি কেজি গরুর মাংস ৬০০ টাকা এবং খাসির মাংস ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা এর কারণ হিসেবে অতিরিক্ত খাজনা ও সরকারি লোকজনের চাঁদা আদায়কে দায়ী করেছেন। তারা বলছেন, পশুর হাটে চাঁদাবাজি বন্ধ হলে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৩০০ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব। এই চাঁদাবাজির অর্থ সরকারের ওপর মহলেও যাচ্ছে। আওয়ামী সিন্ডিকেট পবিত্র রমজান মাস এলেই দ্রব্যমূল বাড়িয়ে মানুষকে জিম্মি করে ফেলেছে। লুটপাটতন্ত্র সর্বত্র আজ জেঁকে বসেছে।’

নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির জন্য সরকারি দলের সিন্ডিকেটকে দায়ী করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। সাধারণ মানুষজন এখন বাজারে গিয়ে সেটা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। স্বল্প আয়ের মানুষজন দিশেহারা হয়ে উঠেছেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে না। অথচ রোজার শুরুতেই বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। হু হু করে দাম বেড়ে চলেছে। বিভিন্ন পণ্যের দাম গড়ে বেড়েছে তিন থেকে চার গুন। বাজারে সরকারের কোনো নজরদারি নেই, তাদের নজর লুটপাটে।’

‘পাটকল শ্রমিকদের দাবি মেনে নিন’
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আজকে শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না, কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যে দাম পায় না। বিজেএমসির নিয়ন্ত্রণাধীন পাটকলসমূহে প্রতিদিন কোনো না কোনো কলে ধর্মঘট চলছে। বহুদিন তারা বেতন পায় না, ক্ষুধায়-দাবিদ্র্যতায় দিনাতিপাত করতে হচ্ছে এই পাটকল শ্রমিকদেরকে।’

‘২০১৫ সালের মজুরি কমিশন রোয়েদাঁদ এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি। মিলগুলোতে শ্রমিকদের ১০ থেকে ১৫ সাপ্তাহের মজুরি বাকি পড়ে রয়েছে। স্টাফদের তিন মাসের বেতন বাকি। সামনে ঈদ আসছে, এই ঈদে তাদের সন্তানদেরকে কাপড় দেওয়া দূরে থাক, তাদের পেটে আহারটুকু যোগাতে পারবে কি না, সে নিয়েই শ্রমিকরা সন্দিহান। রমজান মাসে পাটকল শ্রমিকদের এই যৌক্তিক দাবিগুলোকে মেনে নেওয়ার জন্য আমি দলের পক্ষ থেকে জোর দাবি জানাচ্ছি।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপিকা শাহিদা রফিক, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, কেন্দ্রীয় নেতা মুনির হোসেন, মাহবুবুল হক নান্নু, খান রবিউল ইসলাম রবি ও শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেইন উপস্থিত ছিলেন।