বাড়ি আবহাওয়া চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কে হাঁটু পানি; মাছ ধরছেন মৎস্য শিকারীরা

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কে হাঁটু পানি; মাছ ধরছেন মৎস্য শিকারীরা

259

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশের হাসিমপুর এলাকায় এক লাইনে চলছে গাড়ি, মহাসড়কে এখনো হাঁটু পরিমান পানি। এ অবস্থায় রাস্তায় বন্যার পানির মধ্যে মাছ ধরছেন এক সৌখিন মৎস্য শিকারি।  সড়কের উভয় অংশে দেড় থেকে দুই কিলোমিটার লম্বা যানজট তৈরি হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ এক লাইনে গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করেছে। তবে ছোট যানবাহন চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না, পানিতে ইঞ্জিন বিকল হতে পারে এমন আশঙ্কায়।

ছোট গাড়িগুলো চলাচলে বাধা দেওয়া হচ্ছে পানিতে ইঞ্জিন বিকল হতে পারে এমন আশঙ্কায়। তলিয়ে যাওয়া সড়কের একাধিক অংশে বেশকিছু গাড়ি বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ফলে যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে।

দায়িত্বরত পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সড়কে এখনো হাঁটু পরিমান পানি আছে। এমতাবস্থায় যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ। সড়কে বেশ কিছু যানবাহন বিকল হয়ে পড়ায় যানজট হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে পুলিশ এক লাইনে গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করেছে এবং ছোট যানবাহনগুলোকে পারাপারে অনুমতি দিচ্ছে না।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে গাড়ির দীর্ঘ সারি স্থবির হয়ে আছে। আগে থেকেই বন্ধ ছিল কেরানীহাট-বান্দরবান সড়ক। ফলে চট্টগ্রামের সঙ্গে পর্যটননগর কক্সবাজার, পার্বত্য জেলা বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ প্রায় বন্ধ।

রবিবার সকালে কেরানীহাটে দেখা গেছে, দুর্গত মানুষের ভয়ঙ্কর চিত্র। কারো মাথায় বস্তা, কারো কাঁধে বস্তা। কেউ বা কোলে কাঁধে নিয়েছেন বাচ্চাদের। কারো হাতে গরুর রশি। সবাই ছুটছে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে। এখন উঁচু জায়গা যদি পাওয়া যায়-কোথাও। এমন আশায়। তখন কেরানীহাটেই হাঁটুর উপরে পানি। তবে এ অবস্থায় অনেকেই পানিতে মাছ ধরছেন, যা ধরা পড়েছে ছবিতে।

চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারমুখী বাসের চালক আব্দুর রশিদ জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে নয়টায় হাশিমপুর রাস্তায় যানজটের কারণে দীর্ঘ দেড় ঘন্টা সড়কে অবস্থান করেন, পরে পারাপারের অনুমতি পেয়েছেন। উল্টো দিকে চট্টগ্রামমুখী ট্রাকচালক আব্দুল হানিফ বলেছেন, তিনি তিন ঘন্টা অপেক্ষা করে চট্টগ্রামমুখী পথ চলার যাওয়ার অনুমতি পেয়েছেন। সড়কের এই স্থানে বিপুল সংখ্যক যাত্রী পায়ে হেঁটে হাঁটু পরিমান পানিতে ভিজে পারাপার হচ্ছেন। স্থানীয়রা সড়কে জাল ফেলে মাছ ধরছেন।

প্রসঙ্গত, গত তিনদিন ধরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের হাশিমপুর নামক স্থানে যান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। গতকাল রবিবার কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম আসতে অনেক যাত্রীকে সর্বোচ্চ ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হয়েছে। ওদিকে চট্টগ্রাম বান্দরবান সড়ক এখনো পানির নিচে তলিয়ে থাকায় সেখানে যানবাহন চলাচল শুরু হয়নি।