বাড়ি প্রধান খবর বৃষ্টি আর বন্যায় অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম

বৃষ্টি আর বন্যায় অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম

70

টানা বৃষ্টি আর উজানের ঢলে সৃষ্ট বন্যায় দেশের বেশির ভাগ নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অতিবৃষ্টি আর বন্যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল একের পর এক প্লাবিত হচ্ছে। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়ছে লাখো মানুষ, নষ্ট হচ্ছে ক্ষেতের ফসল। দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যার কারণে কাঁচাবাজারে শাক-সবজির সরবরাহ কমে যাচ্ছে। এ ছাড়া যাতায়াত ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। ফলে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। 

গত ১৫ দিনের ব্যবধানে ঢাকায় কোনো কোনো পণ্যের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সবজির দাম। ৫০ টাকার কমে এক কেজি কোনো সবজি পাওয়া যায় না। এ ছাড়া মাছ, ডিম ও মসলার দামও বেড়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টি ও বেশ কয়েকটি জেলায় বন্যার কারণে রাজধানীতে পণ্যের সরবরাহ কম। এতে পণ্যের দামে প্রভাব পড়েছে। তবে পেঁয়াজের দাম আগের চেয়ে কিছুটা নিম্নমুখী। ঢাকা বিভিন্ন সবজি বাজারে এ চিত্র দেখা যায়।

মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, ময়মনসিংহসহ ঢাকার আশেপাশের এলাকায় বন্যায় সবজির ক্ষেত ডুবে যাওয়ার কারণে শাক-সবজির দাম বেড়েছে।

রাজধানীর বাজারগুলোতে সব ধরনের সবজি বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। পাকা টমেটো ১৩০-১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। ১৫ দিন আগে এর দাম ছিল ৬০-৮০ টাকা। আর এক সপ্তাহ আগে দাম ছিল ৮০-১০০ টাকা।

অস্বাভাবিকভাবে দাম বেড়েছে কাঁচা মরিচের। উত্তরা ও মতিঝিলে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ মানভেদে ১৮০ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ১৫ দিন আগে এর দাম ছিল ১০০-১২০ টাকা। এ হিসাবে পণ্যটির দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে।

প্রতি কেজি গাজর ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গত সপ্তাহে ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হয়। গত সপ্তাহে ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া করলা বুধবার ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

ঝিঙে ও ঢেড়স ৫০-৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পটল ৪৫-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। গত সপ্তাহে ২০-৩০ টাকায় বিক্রি হয়। গত সপ্তাহে ৪০-৫০ টাকার বেগুন বুধবার ৬০-৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।

মতিঝিলের এক সবজি বিক্রেতা জানান, বর্তমানে ঢাকায় সবজির সরবরাহ একেবারে কম। গত কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টির কারণে এ সমস্যা তৈরি হয়েছে।

রাজধানীর খিলক্ষেতের এক সবজি বিক্রেতা বলেন, ‘বন্যার কারণে রাজধানীতে সবজির সরবরাহ কম। পাইকারি বাজারে দাম বাড়তি। এ কারণে খুচরায়ও দাম বেশি। চলতি মাসের শুরুতে রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হয়।’ 

এক লাফে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২৫ টাকা বেড়ে ৫০-৫৫ টাকা বেড়েছে। তবে বর্তমানে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কম। গত দুইদিন ধরে রাজধানীর বাজারে দেশি পেঁয়াজ ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর একটু নিম্নমানের দেশি পেঁয়াজ ৩৮ টাকা কেজি বিক্রি করতে দেখা যায়। তবে এক মাস আগের তুলনায় এ দাম এখনো চড়া। অন্যদিকে দেশি রসুন মানভেদে ১৪০-১৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ১২০-১৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

তবে এ রসুন এক মাস আগে ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি দারুচিনি ৪৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গত সপ্তাহে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ডজনপ্রতি ডিমে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে এক ডজন ডিম ১১০ থেকে ১২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আগে ছিল ৯০-১০০ টাকা। তবে অভিজাত শপিং মলে এর দাম আরও বেশি। মাছের দাম কেজিতে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি তেলাপিয়া ১৪০-১৬০ টাকা, পাঙাশ ১৬০-১৭০ টাকা এবং চাষের রুই ৩৫০-৪০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর বাজারে শাক-সবজির দাম বাড়লেও সাগরে জেলেদের জালে ধারা পড়ছে প্রচুর ইলিশ। ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে মাছ ধরা শুরু করেছেন জেলেরা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পটুয়াখালীর কুয়াকাটার মহিপুর-আলীপুর মৎস্যবন্দরে ইলিশভর্তি ট্রলার এসে ভিড়ছে। ইলিশের সরবরাহ বাড়ায় পাইকারিতে ইলিশের দামও কমে গেছে।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে মৎস্যবন্দরে ব্যবসায়ীরা অলস সময় কাটার পর আবার ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। মুখর হয়ে উঠেছে কুয়াকাটা-মহিপুর-আলীপুর মৎস্যবন্দর।

মৎস্য বিভাগ সূত্র জানায়, বঙ্গোপসাগরে মাছসহ মূল্যবান প্রাণিজ সম্পদের ভান্ডার সুরক্ষায় চলতি বছরের ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সরকার। জাটকা নিধনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের সফলতাকে অনুসরণ করে বঙ্গোপসাগরে প্রাণিসম্পদ সুরক্ষায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ২৩ জুলাই মধ্যরাতে নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। এরপর সাগরে জেলেরা পুরোদমে মাছ ধরা শুরু করেন। আর ইলিশের সরবরাহ বাড়ায় দামও কমে গেছে। ৫০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের ইলিশের মণ ছিল ৩০ হাজার থেকে ৩২ হাজার টাকা (প্রতি কেজি ৭৫০-৮০০ টাকা)। এখন তা কমে বিক্রি হচ্ছে ১৮ হাজার থেকে ২৪ হাজার টাকা (প্রতি কেজি ৪৫০-৬০০ টাকা)।