বাড়ি দিত্বীয় সারির খবর গুরুত্বপুর্ণ সড়কগুলো‬ মধ্যে ৫৩ শতাংশ এডিস বংশবিস্তার

গুরুত্বপুর্ণ সড়কগুলো‬ মধ্যে ৫৩ শতাংশ এডিস বংশবিস্তার

92

এডিস মশা নির্মূলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) চলমান চিরুনি অভিযানে ৫৩ শতাংশ বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার বংশবিস্তারের উপযোগী পরিবেশ পাওয়া গেছে।

গত ২৫ আগস্ট থেকে ৬দিনে ৩৬টি ওয়ার্ডে ৬৩ হাজার ২৭৭টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে মোট ১ হাজার ৩৭৮টি বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা পেয়েছে ডিএনসিসি। এ ছাড়া ৩৩ হাজার ৫৬৪টি বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার বংশবিস্তার উপযোগী স্থান বা জমে থাকা পানি পাওয়া গেছে।

চিরুনি অভিযানের ষষ্ঠ দিন শুক্রবার ডিএনসিসির ৩৬টি ওয়ার্ডে ১১ হাজার ৪৫টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধনকর্মীরা। এদিন মোট ১৫৫টি বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম গতকাল রাতে মুঠোফোনে বলেন, এডিস মশার বংশবিস্তারের উপযোগী পরিবেশ না রাখতে বারবার অনুরোধ করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। এ অভিযানের ফলাফল পর্যালোচনা করে পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারণ করা হবে।

ডিএনসিসি জানায়, অভিযান চালিয়ে সিটি করপোরেশনের পরিদর্শক দল দেখতে পায়, অনেক আবাসিক ভবনে এডিস মশা বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ আছে। অনেক বাড়ির ছাদের পরিবেশ ছিল নোংরা। সেখানে পানি জমে থাকা মাটি ও প্লাস্টিকের পাত্র, বালতি, ড্রাম, অব্যবহৃত টায়ার ও কর্কশিট এবং আগাছার জঙ্গল, পরিত্যক্ত খোলা টিন ও কমোড পাওয়া যায়। নির্মাণাধীন ভবনের ভূগর্ভস্থ পানির সংরক্ষণাগার, ফেলে রাখা পাত্র, রঙের কৌটা, পাইপে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা জন্মাচ্ছে।

ছবি: সংগ্রহ

ডিএনসিসির অঞ্চল–৩–এর নির্বাহী কর্মকর্তা মীর নাহিদ আহসান বলেন, নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন পাত্র ও জলাধারে পানি জমে থাকতে দেখা যাচ্ছে। এগুলোতে মশার লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে। অনেক বাড়িতে মালিক থাকেন না। নিরাপত্তারক্ষী বা তত্ত্বাবধায়কেরা বাড়িগুলো দেখভাল করেন। তাঁদের দেখাশোনায় ঘাটতি আছে বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।

ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, ২০ আগস্ট ডিএনসিসির ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে চিরুনি অভিযান শুরু হয়। এ কর্মসূচিতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা এবং এলাকার মানুষকে সচেতন করার কাজ করছে ডিএনসিসির প্রতিনিধিদল। পরীক্ষামূলক কর্মসূচিতে সাড়া পাওয়ায় ৩৬ ওয়ার্ডেই ১০ দিনব্যাপী চিরুনি অভিযান শুরু করা হয়।

অভিযানের মধ্যে ২৭ আগস্ট সবচেয়ে বেশি স্থাপনা পরিদর্শন করেছে ডিএনসিসির প্রতিনিধিদল। সেদিন ১১ হাজার ৪৬০টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করা হয়। এর মধ্যে ৬ হাজার ৬৮৩টি স্থাপনাতেই এডিস মশার বংশবিস্তারের উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।

পরিদর্শক দল এডিস মশার বংশবিস্তারের উপযোগী জায়গাগুলো ধ্বংস করে বা পরিষ্কার করে দেয়। ডিএনসিসির চিরুনি অভিযান ৬৩ হাজার ২৭৭টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন এর মধ্যে ১ হাজার ৩৭৮টি বাড়ি ও স্থাপনায় মশার লার্ভা পাওয়া গেছে মাঠপর্যায়ে এ অভিযান তদারক করছেন স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলররা।

ডিএনসিসির ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেওয়ান আবদুল মান্নান বলেন, বাসার বিড়ালকে পানি খাওয়ানোর পাত্র ও মিটার বক্সের মতো জায়গাতে লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে। অভিযানে এডিস মশা জন্ম নেওয়ার ক্ষেত্রগুলো সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। আগের চেয়ে জনগণ এখন মশার প্রজননস্থল নিয়ে অনেক সচেতন। এটি ধরে রাখতে হবে।

অভিযানে কোনো স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে কীটনাশক দিয়ে লার্ভাগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে। আর যে বাড়ি বা স্থাপনায় লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে ‘এ বাড়ি/স্থাপনায় এডিস মশার অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে’ লেখা স্টিকার লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার শুরুতেই সিটি করপোরেশনের এমন উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) নগরায়ণ ও সুশাসন কমিটির সদস্যসচিব ইকবাল হাবিব।

তিনি বলেন, দেড় মাস আগেও অনেকে এডিস মশার প্রজননস্থলের বিষয়টি সেভাবে জানত না। সিটি করপোরেশন শুরুতেই জনসম্পৃক্ত উদ্যোগ নিলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এতটা খারাপ হতো না। এমন পরিচ্ছন্নতা অভিযান সারা বছর চালিয়ে যাওয়া উচিত।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে রাজধানীর চেয়ে ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগী বেশি ভর্তি হচ্ছেন। গত ২৩ আগস্ট থেকে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তিকৃত মোট সংখ্যা ৮ হাজার ৮২০। তাদের মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ৪ হাজার ১২৬ ও ঢাকার বাইরে ৪ হাজার ৬৯৪ জন ভর্তি হয়েছেন। সে হিসাবে ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে ৫৬৮ জন বেশি ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।