বাড়ি অদ্ভুতুড়ে বাসা থেকে ‘উধাও’ শিশুটিকে পাওয়া গেল বস্তার ভেতরে

বাসা থেকে ‘উধাও’ শিশুটিকে পাওয়া গেল বস্তার ভেতরে

70

স্কুল শিক্ষকের বাসা থেকে হারানো শিশুর খোঁজ মিলেছে নগরীর সার্কিট হাউসের সামনে সড়কের পাশে। ৪০ দিন বয়সী কন্যা শিশুটির বাবা চিটাগাং গ্রামার স্কুলের শিক্ষক। গতকাল সোমবার দুপুর বারোটার দিকে ওই শিক্ষকের মেহেদীবাগের বাসা থেকে নিখোঁজের আধা ঘন্টা পরেই বস্তার ভেতরে শিশুটির খোঁজ মেলে।

উদ্ধারের পর পরই শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কান্নার শব্দ শুনে এক রিকশা চালকের কাছ থেকে খবর পেয়ে শিশুটি উদ্ধার করেন সার্কিট হাউসের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দামপাড়া পুলিশ লাইন্সের নায়েক দেবরঞ্জন চাকমা।

বাসা থেকে শিশুটি কিভাবে নিখোঁজ হলো তা খতিয়ে দেখছে চকবাজার থানা পুলিশ। চার তলার বাসা থেকে নিয়ে বস্তায় ভরে শিশু ফেলে দেয়ার বিষয়টি রহস্যজনক বলে ধারণা করছেন চকবাজার থানা পুলিশ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওই শিক্ষকের বাসা থেকে বস্তা হাতে বের হওয়া এক নারীর ভিডিও ফুটেজ পুলিশের হাতে এসেছে। ফুটেজের ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত করা গেলে শিশুটিকে ফেলে দেয়ার রহস্য উন্মোচন হবে।

নায়েক দেবরঞ্জন বলেন, সার্কিট হাউসে ডিউটি করে আমরা গেইটে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। ওই সময় এক রিকশা চালক আমাকে এসে জানায় দেয়ালের পাশে বস্তার ভেতর একটি শিশু কান্না করছে।

“এসময় গেইট থেকে দ্রুত গিয়ে চটের বস্তার ভেতর থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে শিশুটির চিকিৎসা চলছে।”

শিশুটিকে কাঁথা দিয়ে মুড়িয়ে চটের বস্তার ভেতর রেখে মুখ বেঁধে দেয়া হয়েছিল জানিয়ে নায়েক দেবরঞ্জন বলেন, “সার্কিট হাউসের সীমানা গ্রিলের ফাঁক দিয়ে শিশুটিকে ভেতরে ঘাসের উপর রেখে যাওয়া হয়েছিল। তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে রেখে গেছে সে ব্যাপারে পথচারীরা কিছু জানাতে পারেননি।”

চকবাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, চিটাগাং গ্রামার স্কুলের (সিজিএস) শিক্ষক মানিক চক্রবর্ত্তী বেলা অনুমানিক ১২টার দিকে ৯৯৯ ফোন করে মেহেদীবাগের তার বাসা থেকে বাচ্চা চুরির অভিযোগ করেন।

“অভিযোগ পেয়ে আমি ওই বাসায় গিয়ে সবদিক খতিয়ে দেখছিলাম। এ সময় এক রিকশা চালক যাত্রী নিয়ে মেহেদীবাগের দিকে যাওয়ার পথে সার্কিট হাউসে পুলিশ একটি বাচ্চা পেয়েছে এবং তাকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানায়।”

এ সংবাদ শুনে শিশুর মা-বাবাকে নিয়ে আমরা চমেক হাসপাতালে যায়। সেখানে শিক্ষক দম্পতি তাদের ৪০ দিন বয়সী কন্যা শিশুটিকে শনাক্ত করেন।

পুলিশ কর্মকর্তা রিয়াজ জানান, ওই বাসায় শিক্ষক দম্পতি তাদের ১০ বছর বয়েসী ছেলে ও মাকে নিয়ে থাকেন। শিশুর মা হ্যাপী চক্রবর্ত্তী জানিয়েছেন শিশুটিকে খাটের উপর রেখে তিনি চার তলা থেকে নিচে নেমেছিলেন ওষুধ কিনতে। ওই সময় তার শাশুড়ি ছিলেন বাথরুমে। বাসায় গিয়ে শিশুটিকে না দেখে তার বাবাকে ফোন করে বিষয়টি জানায়।

তিনি বলেন, বাসা থেকে শিশু ‘চুরির’ বিষয়টি রহস্যজনক। কিভাবে শিশুটিকে বাসা থেকে বের করা হলো এবং কে বা কারা সেটি নিয়ে সার্কিট হাউসের সীমানা প্রাচীরের কাছে রেখেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আমরা ভবনের এবং কাজীর দেউড়ি ও আশপাশের এলাকায় সিসিটিভি ফুটেজগুলো সংগ্রহ করছি।