বাড়ি চিটাগাং চট্টলার বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব খায়ের আহম্মদ

চট্টলার বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব খায়ের আহম্মদ

538

খায়ের আহম্মদ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা । যিনি প্রাণ বাজি রেখে মহান স্বাধীনতার যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষনই তার যুদ্ধে যাওয়ার মূল অনুপ্রেরণা। তিনি ১৯৪২ সালের ২১ জুলাই চট্টগ্রামের পটিয়ার ধলঘাট ইউনিয়নের তেকোটা গ্রামে এক মুসলিম সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। প্রায় শিশুকাল থেকেই তার মধ্যে দেশত্ববোধ লক্ষ করা যায়।

তিনি প্রাইমারীর গন্ডি পেরিয়ে উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ পাঠ শেষ করে চাকুরী জিবনে পা রাখতে না রাখতেই সেই ভয়াল ১৯৭১ সালে যখন দেশ শতরু পক্ষ ধারা আক্রান্ত হয় ঠিক তখনই দেশ ও মাটির টানে দেশের মানুষকে বাঁচাতে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন সেই পাক হানাদার বাহিনীর উপর। তখন তার অনেক সমবয়সী যোগ দিয়েছিল রাজাকার বাহিনীতে আর তিনি নাম লিখিয়েছিলেন বাঙ্গালীর বীর সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের দলে।

পটিয়ার ধলঘাট এর তেকোটা গ্রাম, বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের অগ্রনায়ক মাষ্টারদা সূর্যসেনের চারনভুমি এটি। এ অনুযায়ী বাংলাদেশের এই পবিত্র ভূমিতে জন্ম নিয়েছেন অনেক বীর বাঙ্গালী যার মধ্যে খায়ের আহম্মদ একজন।

৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন হাতের তর্জনী আঙ্গুল উঠিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধের ডাক দিয়েছেন, যখন দেশকে স্বাধীন করার জন্য বাংলার সন্তানরা দলে দলে প্রানের মায়া ত্যাগ করে দেশের স্বাধীনতাকে ছিনিয়ে আনার জন্য ঘর ছাড়ল। তখনি খায়ের আহম্মদ সিদ্ধান্ত নিলেন যুদ্ধে যাবেন। প্রথমের দিকে সন্তান মোহে পিতা মরহুম ইসমাইল ও মাতা মাহমুদা খাতুন যুদ্ধে যাওয়ার অনুমতি না দিলেও পরে দেশের প্রয়োজনে তারাই প্রাণপনে যুদ্ধ করে দেশকে শ্ত্রু মুক্ত করার অনুমতি দিলেন।

যোগ দেন মুক্তিযুদ্ধে, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সাথে নিয়ে পুরো যুদ্ধে নানা চরাই-উতরায় পার হয়ে দেশকে এনে দেন কাঙ্খিত স্বাধীনতা। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর আমরা পাই লাল সবুজের এক স্বাধীন ভূখন্ড।

যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে দেশকে অবকাঠামোগত ও খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ করতে জাতির পিতার নানা উদ্যোগ ও চেতনাকে বুকে লালন করে খায়ের আহম্মদ ও স্বপ্ন দেখেন সুন্দর আগামীর এবং নিজ গ্রামে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে নানা কর্মকান্ডও পরিচালনা করেন তিনি। তার বিবাহিত জীবনে চার ছেলে ও তিন মেয়ে। যাদের তিনি দিয়ে গেছেন প্রকৃত শিক্ষা ও দেশপ্রেমের পাঠ।

গত ৯ মার্চ রাত ৩ টা ৩০ মিনিটে তিনি পরলোক গমন করেন যদিও জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানরা মরেও অমর হয়ে থাকবেন লক্ষ কোটি মানুষের অন্তরে।

পরবর্তীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা খায়ের আহম্মদের স্বরণে শোক সভার আয়জন করা হয় এতে “সম্মাননা স্মারক উম্মোচন” সহ চলমান বন্ধুপ্রতীম আরাকান-রোহিঙ্গা ও কাশ্মীর কেন্দ্রীক সৃষ্ট সম্ভাব্য জাতিগত উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে “বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজ্বী খায়ের আহমদ মেমোরিয়াল ট্রাস্ট” কর্তৃক আয়োজিত “স্মৃতি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ” এলাকা ভিত্তিক ঐতিহাসিক ঘটনা বলে স্বীকৃতি পেয়েছে ইতিমধ্যেই।

উক্ত সম্মাননা স্মারকে বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং পটিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মহসীন খাঁন লিখেছেন, মহান স্বাধীনতার মাসে বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আলহাজ খায়ের আহম্মদের মৃত্যুতে আমাদের অপূরনীয় ক্ষতি হয়েছে। একাত্তরের মুক্তি সংগ্রামে তাঁর আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন স্বরণ করবে। পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও পটিয়া পৌরসভার মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রসিদ তার শোকবাণীতে লিখেছেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম হাজী খায়ের আহম্মদ অত্যান্ত শান্তপ্রিয় ও সহজ সরল ব্যাক্তি ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে আমরা আমাদের একজন অভিভাবকে হারিয়েছি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা খায়ের আহম্মদের এর ন্যায় তার তৃতীয় সন্তান মো নাজিম উদ্দিন ও দেশ মৃত্তিকা রক্ষায় নিয়জিত এক পুলিশ কর্মকর্তা যিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম ট্রাফিক বিভাগের বন্দর জোনে কর্মরত আছেন। তিনিও তার পিতার মৃত্যুতে ভেঙ্গে পড়েন অনেকটা। আর্দশ পিতার মৃত্যু শোক ভুলতে পারেননি এখনো। পিতার রেখে যাওয়া স্মতি গুলোকে খুজে বেড়ান আজো।